ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের তুলনায় গণভোটে ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে দুটি সংসদীয় আসনের ফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটে কোনো বিধিনিষেধ না থাকার কারণে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি। ইসি সচিব বলেন, মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে।
তিনি আরও জানান, অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং গণসংহতি আন্দোলন এক একটি আসনে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জিতেছে।
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৯.৪৪ শতাংশ হলেও গণভোটে এটি ৬০.২৬ শতাংশ। কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে দুটি আসনের সংসদ ফল স্থগিত রয়েছে, সেখানে গণভোটের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় হার বেশি হয়েছে।
গণভোটের ফলাফলে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
গেজেট প্রকাশ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের হার্ডকপি পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার মধ্যেই হার্ডকপি আসা শুরু হবে। এ সময় তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

