‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ছোটগল্প থেকে বহুল উদ্ধৃত এই পঙ্ক্তিটি যেন আবারও আলোচনায়। সাম্প্রতিক স্পিকার ইস্যুতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শপথের পরও বিতর্ক থামছে না।
আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। তবে বিদায়ী স্পিকারকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ নেই। সংসদে আগে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সদস্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিদায়ী স্পিকার শুধু শপথ পড়ান না। সংসদের প্রথম বৈঠকও শুরু হয় তার সভাপতিত্বে। অধিবেশন শুরুর পর নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন। নতুন স্পিকার আসনে বসলে বিদায়ী স্পিকারের দায়িত্ব শেষ হয়।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিদায়ী স্পিকার অনুপস্থিত। তাই প্রশ্ন উঠেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে। সংবিধান অনুযায়ী এই দায়িত্ব বিদায়ী স্পিকারের। সরকার জানিয়েছে, আজ সোমবারের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথের পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসছে। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কে। গতকাল রবিবার নবনির্বাচিত ও একাধিকবারের সাবেক সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যিনি শপথ পড়াবেন তিনিই নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সভাপতিত্ব করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
বিদায়ী স্পিকার না থাকায় আলোচনায় এসেছে প্রধান বিচারপতি কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নাম। তবে তারা কেউ নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন। অথচ স্পিকার নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে। এ বিষয়টি তুলে ধরলে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, সে ক্ষেত্রে আগের নজির দেখতে হবে।
নবনির্বাচিত ও একাধিকবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান বলেন, কে শপথ পড়াবেন তা সময়েই নির্ধারিত হবে। একইভাবে প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন সেটিও তখনই স্পষ্ট হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভালো সমাধানই আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। ওই বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি একটি মামলার আসামি হন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
একই সংসদে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন শামসুল হক টুকু। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিও মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এই বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন এবং প্রথম বৈঠক কার সভাপতিত্বে শুরু হবে তা নিয়ে আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবে মোটামুটি নিশ্চিত তথ্য হলো, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠেয় শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

