গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ১৮ মাস পূর্ণ করল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, আইনি পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা সংবলিত একটি ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, ২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ১৬ বছরের দমন-পীড়নের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তখন রাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতের অবনতি এবং বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের অবিশ্বাস বিদ্যমান ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং সুপারিশের ভিত্তিতে নিজ উদ্যোগে বাস্তবসম্মত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। প্রধান উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন প্রণয়ন এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে, যার ৮৪% ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।’
অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। চীনের সঙ্গে ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার ৩৭% থেকে ২০% নামানো হয়েছে। ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। ব্যাংকিং তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারে ১,২০০-এরও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামকরণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে গণমাধ্যম পুনরায় চালু করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ‘সংস্কারগুলোর মাধ্যমে নাগরিকবান্ধব কাঠামোর সূচনা ঘটেছে। ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ সম্ভব নয়, তবে দেশ স্বৈরাচারি ব্যবস্থার থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হচ্ছে।’


