হিজরি ১৪৪৭ সনের সাদাকাতুল ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা আদায় করতে হবে।
আজ বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে আয়োজিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
সভায় জানানো হয়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, যব, খেজুর, কিসমিস বা পনির—এই পণ্যগুলোর যেকোনো একটি দিয়ে অথবা তার সমপরিমাণ বাজারমূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। অর্থাৎ, ফিতরার ক্ষেত্রে সবার জন্য একক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নয়; বরং সামর্থ্যভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গম বা আটার ক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম অথবা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা ৫৯৫ টাকা, খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, কিসমিসের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা হিসেবে প্রদান করতে হবে।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, রোজা শেষে ঈদুল ফিতরের আগে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে এই ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। এর মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল মানুষও ঈদের আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদাকাতুল ফিতর শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি সামাজিক সাম্য ও সহমর্মিতার গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত সময়মতো ফিতরা আদায় করা, যাতে ঈদের আগে প্রকৃত উপকারভোগীরা সহায়তা পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, হিজরি ১৪৪৭ সনের জন্য নির্ধারিত এই হার মুসলমানদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে এবং ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

