মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত অর্থনীতি বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আলোচনায় থাকা সব বিষয়ই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, তা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এ সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রথমত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিকল্প সমাধানের পথ খুঁজছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সুবিধাজনক আমদানির সুযোগ যাচাই করছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলবে—এ বিষয়ে সরকারকে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে যেসব চুক্তি নির্ধারিত দামে করা আছে, সেগুলোতে আপাতত চাপ কম থাকতে পারে।
এদিকে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, যার প্রাথমিক আকার ছিল ৪৭০ কোটি ডলার। পরে ২০২৪ সালের জুনে এটি বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অবশিষ্ট ১৮৬ কোটি ডলারের মধ্যে আগামী জুলাইয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি মিলিয়ে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে গভর্নর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এ খাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। তিনি এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন, যেখানে নীতিনির্ধারণ হবে সম্পূর্ণ পেশাদার ভিত্তিতে।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। জানান, এ বিষয়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কাজ চলছে। যদিও বৈশ্বিকভাবে এ ধরনের সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের হার কম, তবুও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ ব্যাংক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এজন্য কৃষি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে (এসএমই) সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরী, ড. কবির আহমেদ এবং মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানও বক্তব্য দেন।

