দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাড়তে থাকা সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন একটি বিস্তৃত নীতিমালা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০ (২০২৬)’ শিরোনামের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন সেবা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্কভিত্তিক কার্যক্রম দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এতে সেবা সহজ হয়েছে ঠিকই, তবে একই সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হ্যাকিং, ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার এবং তথ্য চুরির মতো সাইবার অপরাধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও সুনামহানির কারণ হতে পারে। তাই গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ফ্রেমওয়ার্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাইবার নিরাপত্তা পরিচালনা কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডাটা সুরক্ষা, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ, ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রম নথিভুক্ত রাখা, সুরক্ষিত সফটওয়্যার ও সিস্টেম ডিজাইন বজায় রাখা এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখতে বলা হয়েছে। কর্মীদের জন্য সাধারণ ও বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদ্ধতি প্রয়োজন। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালাটি ছয়টি মূল ধাপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি—ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সুরক্ষা, হুমকি সনাক্ত, প্রতিক্রিয়া, পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেদন তৈরি। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখা এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি অভিন্ন মানদণ্ড গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আইসিটি বিভাগের অডিট ও কমপ্লায়েন্স ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। উল্লেখ্য, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (সংশোধিত), ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ এবং পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন ২০২৪-এর আওতায় এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

