দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে তাদের আমানত ও ঋণ গ্রহণ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে নারীদের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১১.৮১ লাখ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১০.৩৪ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১.৪৭ লাখ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নারীদের কাছে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৪৬ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা।
ব্যাংকারদের মতে, এখন অনেক নারী ঘরে টাকা রেখে দেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর পেছনে নিরাপত্তা ও আর্থিক সচেতনতা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সন্তানের শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নারীরা নিয়মিত সঞ্চয়ে মনোযোগী হচ্ছেন।
এছাড়া সহজে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং এবং এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নারীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে আগে যারা ব্যাংকের বাইরে ছিলেন, তারাও এখন নিয়মিত লেনদেন করছেন।অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোগ এবং ঘরে বসে পরিচালিত ব্যবসার প্রসার নারীদের ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন পেতে তারা ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছেন।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা, কম সুদের হার এবং সহজ জামানত ব্যবস্থা—এসব উদ্যোগ ঋণ পাওয়াকে আরও সহজ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচিও নারীদের ব্যবসায় যুক্ত হতে উৎসাহ দিচ্ছে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা মনে করেন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমানত ও ঋণ—উভয় ক্ষেত্রেই এই ইতিবাচক প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কিছু ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে নারী-কেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা, প্রশিক্ষণ ও জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা উল্লেখযোগ্য, যা নারীদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, শিক্ষা, সচেতনতা ও নীতিগত সহায়তার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে নারীদের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

