দেশের ব্যাংকিং খাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আগামী তিন বছরের মধ্যে শীর্ষ ২০-২৫টি ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীর এক সাক্ষাৎকারে এ লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।
২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা এসবিএসি ব্যাংক চলতি বছরে ১৩ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটি ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি শাখায় শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যাংকটির মোট আমানত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ বিতরণ ৯ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে মঈনুল কবীর জানান, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে। তবে গ্রাহকদের সহায়তা এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল সেবার প্রসারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্যাংকটি। গ্রাহকরা যাতে ঘরে বসেই বিভিন্ন বিল পরিশোধসহ ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদেরও সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি, বিশেষ করে ওটিপি বা সন্দেহজনক লিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
এসবিএসি ব্যাংক বড় করপোরেট ঋণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং কৃষিভিত্তিক খাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে মোট ঋণের প্রায় ৩৮ শতাংশ এসএমই খাতে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনার কাজে স্বাধীনতা দিচ্ছে বলেও জানান এমডি। তিনি বলেন, বোর্ড সদস্যরা অভিজ্ঞ ও পেশাদার হওয়ায় তারা নীতিগত দিকনির্দেশনা দিলেও দৈনন্দিন কার্যক্রম বা ঋণ অনুমোদনে হস্তক্ষেপ করছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট দেখা দিলেও এসবিএসি ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মঈনুল কবীরের দাবি, কোনো গ্রাহক চেক জমা দিয়ে অর্থ না পাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বরং গত কয়েক মাসে গ্রাহক আমানত প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যদিও করপোরেট আমানত কিছুটা কমেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশে এসে আটকে পড়া এবং নতুন জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ায় এ প্রভাব পড়তে পারে।
এসবিএসি ব্যাংকের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী, জনমুখী ব্যাংক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। করপোরেট খাতের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক ও এসএমই খাতে সেবা বিস্তারের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

