ডিজিটাল লেনদেনকে একীভূত করতে কঠোর অবস্থানে গেল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ চালু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।
আজ বুধবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা বাধ্যতামূলক করেছে। এতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সেবা আইন ২০২৪’-এর ৩৭(৫) ধারাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধারায় জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, জরিমানার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের থাকলেও কারাদণ্ড কার্যকর করবে আদালত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালানোর সময় ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি নজরে রাখতে অনুরোধ জানানো হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর চালু করতে হবে।
লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমন্বয় ও আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সুবিধার্থে মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মার্চেন্ট পয়েন্টে কেবল পেমেন্টের জন্যই বাংলা কিউআর ব্যবহার করা যাবে। কোনো ধরনের ক্যাশ আউট কার্যক্রম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কিউআর বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সবার জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সব ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহক একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কিউআর স্ক্যান করে লেনদেন করতে পারবেন। নিজস্ব কিউআর ব্যবস্থায় যেখানে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেখানে বাংলা কিউআর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস ব্যবস্থায় নিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে নতুন বা নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

