বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৩৯টি ব্যাংকের অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (বিএসআইসি), যার প্রাথমিক মূলধন ধরা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ের পর অর্থায়ন দেওয়া হবে এই কোম্পানির মাধ্যমে। পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আনার ক্ষেত্রেও কাজ করবে বিএসআইসি, যাতে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ বাড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফার ১ শতাংশ করে অর্থ এই তহবিলে দিচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের মুনাফা থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে ৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন। আপাতত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন নাজিম এ চৌধুরী, তবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্থায়ী সিইও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
শুরুতেই নতুন আইডিয়ায় বিনিয়োগ না করে, কিছুটা অগ্রসর ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ বেছে নেবে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। বিনিয়োগের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে শেয়ার নেবে বিএসআইসি। কোনো স্টার্টআপ সফলতার পথে এগোলে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুনের মধ্যে অন্তত তিনটি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী দুই বছরে ৮ থেকে ১২টি উদ্যোগে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের পর সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার বা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, খুচরা সেবা, গ্রামীণ অর্থনীতি, যোগাযোগ, ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও খাদ্যপণ্য—এই খাতগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুপারিশ নয়, বরং পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবছর ব্যাংকগুলোর মুনাফা থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা এই তহবিলে যুক্ত হবে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তহবিলের আকার আরও বড় হবে। ব্যাংকগুলোর অবদানের ওপর ভিত্তি করে তাদের শেয়ার নির্ধারিত হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশে স্টার্টআপের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশীয় ব্যাংকগুলোর তহবিল থেকে অর্থায়ন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক প্রকল্প নির্বাচন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা না থাকলে এই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টার্টআপ খাত ইতোমধ্যে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। বাংলাদেশেও এমন সম্ভাবনা তৈরি করতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

