ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত একটি বিশেষ কমিটিকে দ্রুত কাজ শেষ করে আগামী রোববারের মধ্যেই সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং আইন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইতোমধ্যে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামি ধারার ব্যাংক আপাতত আগের অবস্থাতেই থাকবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব ব্যাংক একত্র করে একটি বড় ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের বড় অংশ সরকার দিয়েছে, আর বাকি অংশ আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, আরও কয়েকটি ব্যাংক একীভূত বা অবসায়নের যে পরিকল্পনা আগে নেওয়া হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন হবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। সংশোধিত আইন চূড়ান্ত হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের মতো ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশও সংসদে উত্থাপন ও অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে পূর্বে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি কয়েকটি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করে। তবে কিছু বিরোধী সদস্য এই অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, আইনটি কার্যকর থাকা পর্যন্ত এর আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপ বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া ব্যাংক একীভূতকরণ শুধু এই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই নয়, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারেও করা হয়েছে।
এদিকে, মূলধন ঘাটতি ও আর্থিক দুর্বলতায় থাকা কিছু ব্যাংক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজরদারি রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এসব ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে। সংস্থাটির ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় কোনো দুর্বল ব্যাংককে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, একীভূত করা, বিক্রি করা বা পুনর্গঠন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংশোধিত আইনটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

