ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বজায় রাখতে বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলো অপরিবর্তিত রাখা জরুরি বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি সতর্ক করেছেন, ব্যাংক রেজল্যুশন ও আমানত সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশে পরিবর্তন বা কাটছাঁট করা হলে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক-কে ঘিরে যে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কার্যকরভাবে চালিয়ে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে বর্তমান রূপেই পাস করা প্রয়োজন। এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন এলে বিদ্যমান আইন ও গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আইএমএফ শর্ত পূরণে আইন অপরিবর্তিত রাখা জরুরি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর সঙ্গে চুক্তির অন্যতম শর্ত হচ্ছে ব্যাংকিং খাতের এই আইনি কাঠামো অপরিবর্তিতভাবে অনুমোদন করা। পাশাপাশি সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপও চাওয়া হতে পারে। শিগগিরই অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ড. জাহিদ হোসেনের মতে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বাড়ালেই হবে না, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বাড়ানো বা স্বাধীন কমিশন গঠনের মতো উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে খেলাপি ঋণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে দ্রুত পুনর্গঠন করতে হবে। প্রয়োজন হলে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ ও পরিচালনা পর্ষদ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলা।

