শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জনের কথা জানিয়েছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।
আজ রোববার অনুষ্ঠিত পর্ষদের বৈঠকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এই লভ্যাংশ প্রস্তাব করা হয়। ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার রয়েছে।
ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমন্বিত ভিত্তিতে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি টাকা। আগের বছরের ৭৩২ কোটি টাকার তুলনায় এটি ২৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৭.৮৪ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬.৩১ টাকা। এতে ব্যাংকের লাভজনকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্নত রিটার্নের ইঙ্গিত মিলছে।
লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রেও আগের বছরের তুলনায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ১৭.৫ শতাংশ নগদ ও ২.৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারসহ মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আর্থিক সূচকগুলোতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা। শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং নগদ প্রবাহ হয়েছে ৫৮.০৭ টাকা, যা ব্যাংকের তারল্য ও পরিচালন সক্ষমতার দৃঢ় অবস্থান নির্দেশ করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। পাশাপাশি মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) রয়েছে ১৮.০৭ শতাংশ, যা খাতের তুলনায় উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
আগামী ২১ মে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আয় বৃদ্ধি ও উচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে ব্যাংকটি। সামগ্রিক আর্থিক খাতে চাপের মধ্যেও প্রাইম ব্যাংকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারের দর দাঁড়ায় ২৯.৪০ টাকা। এতে শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের স্থিতিশীল আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে।

