মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির হতে পারে বলে জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে।
‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬)’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ হতে পারে। পরের অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এটি আগের বছরের ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উন্নতি, তবুও একই সময়ে ভিয়েতনাম, ভুটান ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে প্রায় পুরো এশিয়াতেই প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। এ অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৫.১ শতাংশে। তবে দেশভেদে পার্থক্য থাকবে। ভিয়েতনামে প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, ভুটান ও ভারত প্রায় ৬.৯ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ায় ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।
এডিবি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছে। তবে এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী না হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে ভোগ ও বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বড় উদ্বেগ হিসেবে থাকছে। চলতি অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চ দাম ও সরবরাহ সংকট এর প্রধান কারণ। আগামী অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে নামতে পারে।
চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি জিডিপির ০.৫ শতাংশ এবং পরের বছরে ০.৬ শতাংশ হতে পারে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয় আপাতত স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক খাতের চাপ মিলিয়ে দেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক সময় পার করছে। তবে সঠিক নীতি ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
প্রতিবেদনটি আরও ইঙ্গিত দেয়, জ্বালানির উচ্চ মূল্য অব্যাহত থাকলে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি ভর্তুকি বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কার্যক্রম মন্থর হলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা থাকলেও ঝুঁকির মাত্রা এখনো বেশি। বৈশ্বিক ধাক্কা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতির ওপরই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

