চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে কৃষিঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সঙ্গে বকেয়া ও খেলাপি ঋণ বাড়ায় খাতটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
-বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো মোট ২৪ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬.৭৭ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, বিদেশি এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বাড়ার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে জানা গেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। জানুয়ারি মাসে কৃষিঋণ বিতরণ ডিসেম্বরের তুলনায় কমে গেলেও আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় তা বেশি ছিল।
ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলো প্রায় ২৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা ঋণ আদায় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। তবে জানুয়ারি শেষে কৃষিঋণের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে ১০ হাজার ৫৯০ কোটির বেশি হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিই এ প্রবণতার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৃষিখাতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ ব্যাংক সহ বড় এনজিওগুলো জানুয়ারি মাসে প্রায় ১৯ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৬২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ঋণ আদায়ও বেড়েছে। তবে মোট বকেয়া ক্ষুদ্রঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার একটি অংশ খেলাপি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা ও ফসলচক্রের কারণে মাসভিত্তিক ঋণ বিতরণে ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে কৃষিখাতে ঋণের প্রবাহ বাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে বকেয়া ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পুনঃতফসিল, সহজ শর্তে ঋণ পুনর্গঠন এবং কৃষকদের জন্য সহায়ক নীতি না থাকলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, কৃষিঋণে প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত দিলেও ঋণের গুণগত মান বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

