ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মাঝেই নতুন আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাবেক মালিকরা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কাছে আবেদন করে তাদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অধিগ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে পুনর্গঠনাধীন ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের ওপর—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—যেগুলোকে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, পুরোনো মালিকদের আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বকেয়া অর্থ পরিশোধ, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় শোধ, কর পরিশোধ এবং ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনর্গঠন। আবেদন অনুমোদনের পর নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ দ্রুত জমা দিতে হবে এবং বাকি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে ‘বাজারভিত্তিক সমাধান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এতে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এতে ব্যাংক খাত সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাঁর মতে, সহজ শর্তে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে তারা আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন, যা একীভূত ব্যাংক কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন এই সুযোগের ফলে গঠিতব্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ সাবেক মালিকরা চাইলে আবার আলাদা ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
সার্বিকভাবে, এই সংশোধনী ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠনের নতুন পথ তৈরি করলেও এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এই উদ্যোগ ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে, নাকি নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়ায়।

