Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Wed, Jan 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » রূপালী ব্যাংকে শীর্ষ ৩২ গ্রাহকের খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা
    ব্যাংক

    রূপালী ব্যাংকে শীর্ষ ৩২ গ্রাহকের খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা

    মনিরুজ্জামানDecember 17, 2025Updated:December 17, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রূপালী ব্যাংকের ৩২টি বড় গ্রাহকের কাছে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায়। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব গ্রাহকের অধিকাংশই বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত একক ঋণসীমা অতিক্রম করে ঋণ পেয়েছে।

    নথিপত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধান অনুসারে রূপালী ব্যাংকের ৪৭ গ্রাহক নিয়ন্ত্রক মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩২ জনের ঋণ ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ। প্রত্যেকের ঝুঁকি এক্সপোজার ২৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা মূলত ঝুঁকির অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ প্রতিরোধের জন্য নির্ধারিত।

    রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “এই ঋণগুলো আমার দায়িত্বকাল থেকে আগে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি ব্যাংকে আসার পর এসব ঋণ আদায়ে জোরালো ভূমিকা নিয়েছি। কিছু গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও পরিশোধ সক্ষমতার ভিত্তিতে পুনঃতফসিলের চেষ্টা চলছে।” নির্দিষ্ট প্রশ্নে তিনি বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কারণে আমরা নির্ধারিত সীমার বেশি ঋণ দিতে হয়েছে।”

    ব্যাংকার ও বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শিথিল নজরদারি বড় গ্রাহকদের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও শিথিল নজরদারির কারণে এই প্রবণতা বেড়েছে।

    এক্সপোজার সীমা অতিক্রম, বড় ঋণগ্রাহক ঝুঁকিতে:

     বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তি, গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের মোট এক্সপোজার পরিশোধযোগ্য মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া যায় না। সীমা অতিক্রম করলে নতুন ঋণ বন্ধ করতে হবে, ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা নিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে সীমার মধ্যে নামাতে হবে।

    সাধারণভাবে, কোনো গ্রাহক বা গ্রুপ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ পেলে তাকে “বড় ঋণগ্রহীতা” হিসেবে ধরা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী এদের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বিশেষ শর্তে ক্যাপিটাল নীতিমালার বেশি ঋণ পেয়েছে এমন গ্রাহক ছিল মাত্র ১৮ জন। সেই সময়ে শীর্ষ ১৬ খেলাপি গ্রাহকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “একক গ্রাহকদের জন্য ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে ব্যাংক ঝুঁকিতে না পড়ে। মূল উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকি প্রশমন করে ব্যাংককে রক্ষা করা।” তিনি বলেন, “কিছু গ্রাহক নন-ফান্ডেড ঋণ, যেমন এলসি ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করেননি। তখন ব্যাংক বাধ্য হয়ে ঋণগুলো ফান্ডেড ঋণে রূপান্তর করেছে, যার ফলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে।”

    আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, “অনেক বড় গ্রাহকের ঋণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয়েছে। একইভাবে সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকোর ঋণে কর্মসংস্থান বিঘ্ন ও শ্রমিক আন্দোলনের আশঙ্কা দেখিয়ে একক ঋণসীমা অতিক্রম হলেও ছাড়পত্র দিতে হয়েছে।”

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে খেলাপিতে দ্বিতীয়:

    স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত রূপালী ব্যাংক দীর্ঘদিন লাভজনক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র আর্থিক চাপে পড়েছে। চারটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার জনতা ব্যাংকের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল—সোনালী ব্যাংকে ২০ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকে ৪০ শতাংশ, জনতা ব্যাংকে ৭০ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংকে ৫১ শতাংশ।

    তবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তবু গত বছর রূপালী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক লাভে ছিল। রূপালী ব্যাংকের নিট মুনাফা ৮ কোটি টাকা, যেখানে সোনালী ব্যাংকের মুনাফা ৮৬৬ কোটি টাকা। বিপরীতে, জনতা ব্যাংক ৩,০৭১ কোটি টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংক ৯৩৭ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

    রূপালী ব্যাংক ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২২ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ২১ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৫৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৪.৯০ শতাংশ। পরবর্তী বছর ২০২২ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকায়, মোট ঋণের ১৫.৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই বছরে এই প্রবণতা দ্রুত বেড়ে খারাপ ঋণের চাপ রূপালী ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

    খেলাপি ঋণ ও মূলধন সংকট:

    ২০২৫ সালের জুন শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২২ হাজার ১৮০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৪৪ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের হিসাব অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে বা ২৩,৭১২ কোটি টাকায়। তুলনামূলকভাবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এই হার ছিল মাত্র ২১ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছে আটকে রয়েছে ১২,২৬৩ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকের মোট ঋণের ৫৫ শতাংশ। জুন পর্যন্ত ব্যাংক এদের কাছ থেকে মাত্র ৯০ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭ শতাংশ।

    মূলধনের পরিস্থিতিও নাজুক। জুন পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের রিকয়ার্ড ক্যাপিটাল বা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মূলধন ৯,৮৮২ কোটি টাকা। তবে মেইনটেইনড ক্যাপিটাল বা রক্ষিত মূলধন মাইনাস ১৩,৬৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি ২৩,২৪০ কোটি টাকা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে প্রভিশন ডেফারেল হিসেবে রয়েছে ১৫,৫৪২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত বড় খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংকের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে, যা রূপালী ব্যাংকের আর্থিক স্থিতি সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

    ব্যাংকের শীর্ষ ১১ খেলাপি গ্রাহক ও ঋণের পরিমাণ: রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ বড় ঋণগ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে:

    • ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপ – ১,০৪৯ কোটি টাকা
    • বেক্সিমকো লিমিটেড – ৯৯০ কোটি টাকা
    • বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন – ৯০০ কোটি টাকা
    • ক্রনি অ্যাপারেলস – ৮৫০ কোটি টাকা
    • জুট টেক্সটাইল মিলস – ৭২০ কোটি টাকা

    অন্যান্য বড় ঋণগ্রাহকরা:

    • ইউনিটেক্স গ্রুপ – ৬৭০ কোটি টাকা
    • এমএসএ টেক্সটাইল লিমিটেড – ৫৮০ কোটি টাকা
    • নূরজাহান গ্রুপ – ৬৩০ কোটি টাকা
    • এএ নিট স্পিন – ৬৪০ কোটি টাকা
    • মাদারীপুর স্পিনিং – ৬২০ কোটি টাকা
    • ডলি কনস্ট্রাকশন – ৫০৫ কোটি টাকা

    এ ১১ শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকের মোট ঋণ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশ দখল করছে।

    পাঁচ শাখায় খেলাপি ঋণের কেন্দ্রীকরণ:

    রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ পাঁচটি শাখায় মোট ঋণের ১৫,৩৯৪ কোটি টাকা বা ৫৫.৩৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র লোকাল অফিস শাখাতেই ব্যাংকের মোট ঋণের ৩৬ শতাংশের বেশি রয়েছে, যদিও সারাদেশে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ৫৮৬টি।

    ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, “ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা সাধারণত একাধিক শাখা থেকে ঋণ নেয় না। বরং কিছু নির্দিষ্ট শাখাকে লক্ষ্য করে ঋণ তোলে। তারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে নির্দিষ্ট শাখায় ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়।” তিনি আরও বলেন, “কিছু শাখায় আমানতের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তখন ওই শাখাগুলো অন্য শাখা থেকে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে। শেষ পর্যন্ত এটি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে।”

    ২০২৫ সালে রূপালী ব্যাংকের সুদ আয় ছিল ১,৭৩২ কোটি টাকা, বিপরীতে সুদ ব্যয় দাঁড়ায় ২,৩২০ কোটি টাকা। ফলে নিট সুদ আয় নেগেটিভ ৫৯৭ কোটি টাকায় এসে দাঁড়ায়। ব্যাংকের সম্পদে মুনাফা (ROA) ও ইকুইটিতে মুনাফা (ROE) যথাক্রমে ০.০১ শতাংশ ও ০.৫ শতাংশ, যা ব্যাংকের গভীর আর্থিক সংকট স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    গণভোটের প্রচারের নির্দেশনায় ব্যাংক সম্পৃক্ততা ঘিরে অস্বস্তি

    January 14, 2026
    ব্যাংক

    প্রবাসীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের সুবিধা

    January 14, 2026
    ব্যাংক

    বাজারদরের বাইরে গিয়ে কার স্বার্থে জমি কিনছে সিটি ব্যাংক?

    January 14, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি August 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত April 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি August 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.