বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নিলামের মাধ্যমে আবারও ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। প্রতি ডলারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। সর্বশেষ এই ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে ৬৯১ মিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের কৌশলের অংশ হিসেবে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর উদ্দেশ্য হলো বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করা। সরবরাহ বেশি ও চাহিদা কম থাকলে ডলারের দাম কমতে দেওয়া এবং চাহিদা বাড়লে স্বাভাবিকভাবে দর বাড়ার সুযোগ রাখা।
ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা কমার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সরকারের বড় অংকের বৈদেশিক পরিশোধের চাপ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি কম থাকায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমেছে।
ডলারের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে। এটি আমদানি কার্যক্রমে মন্দাভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। নভেম্বর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ও ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। এতে ডলারের সরবরাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

