২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট তারল্য সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড (বিসিবিএল), দাবি করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ২০২৫ সালের বার্ষিক সমাপনী শেষে ব্যাংকটি আমানত, ঋণ বিতরণ এবং ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর বিপুলসংখ্যক গ্রাহক একযোগে আমানত উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটি সাময়িক তারল্য সংকটে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই প্রণোদনার ৪০ কোটি টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষে দাবি করা হয়, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগের মাধ্যমে তারা দ্রুত সংকট কাটিয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকে প্রায় ৬৬ হাজার নতুন আমানত হিসাব খোলা হয়েছে। একই সময়ে ৯৪৬ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক আমানত বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তারল্য সহায়তার বিপরীতে সুদ-আসলসহ প্রায় ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।
আমানতের পাশাপাশি বিনিয়োগ কার্যক্রমেও গতিশীলতা বজায় রেখেছে ব্যাংকটি। ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৪৯৪ নতুন বিনিয়োগকারীকে মোট ৭০৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নতুন বিতরণ ছিল ৬৮০ কোটি টাকা। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে বিতরণকৃত নতুন ঋণের শ্রেণীকৃত ঋণের হার দুই শতাংশের নিচে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শ্রেণীকৃত ঋণের হার ২০২৪ সালের তুলনায় ৪.২১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে শ্রেণীকৃত ঋণের নগদ আদায়ের হার ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫ আগস্টের পর নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে ব্যাংকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার, নতুন আমানত সংগ্রহ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাংকটি লাভজনক ও টেকসই অবস্থানে এসেছে।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জিয়াউল করিম বলেন, “২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধির ধারা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। আমরা একটি দেশসেরা এসএমই সেবা ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আমরা স্বচ্ছতা ও উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
কমার্স ব্যাংকের অগ্রগতি ও সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দৈনিক বলেন, “বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। অতীতের ভুলগুলো পেছনে ফেলে তাদের সামনে এগোতে হবে। তবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপর আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।”
বর্তমানে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ১০৭টি শাখা ও উপশাখা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০২৫ সালে সরকারের কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ করেছে ব্যাংকটি। বর্তমানে ব্যাংকের ডিপোজিট ৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা এবং লোন এন্ড অ্যাডভান্স ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার রয়েছে।

