চলতি অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার নিট ঋণ পরিশোধ করলেও সাম্প্রতিক দুই মাসে ঋণের পরিমাণে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণস্থিতি ছয় লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।
অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সরকার ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল, মোট ৫০৩ কোটি টাকা। তবে শেষ দুই মাসে ঋণ নেওয়ার হার বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ বর্তমানে ছয় লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা পৌঁছেছে।
সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রতিবছর ব্যাংক ঋণের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা, আর সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে ৯৯ হাজার কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সঞ্চয়পত্র থেকে গত অর্থবছরে লক্ষ্য ছিল ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, কিন্তু বাস্তবে ঋণ কমে ছয় হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে ঋণ বেড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণ ছিল ছয় লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ স্থিতি এক লাখ ২২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, যা জুন মাসের ৯৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকার তুলনায় ২৪ হাজার ৬ কোটি টাকা বেড়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ বৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায়, এখন তা চার লাখ ৮৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।
গত দুই মাসে ঋণ বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণ কমে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৫০২ কোটি টাকায় নেমেছিল। কিন্তু ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বেড়ে পাঁচ লাখ ৯৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ঋণ আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে (পাঁচ ব্যাংকের একীভূত) গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। আয় আশা অনুযায়ী না হলেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

