বিকাশ অ্যাপে চালু হয়েছে ঢাকা ব্যাংক–এর স্বল্পমেয়াদি ‘সাপ্তাহিক’ ইসলামিক ডিপিএস। গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এই সেবা চালু করেছে দুই প্রতিষ্ঠান। এর ফলে এখন বিকাশ অ্যাপ থেকেই প্রতি সপ্তাহে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কিস্তিতে জমা রাখা যাবে। এই সঞ্চয়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ বা ১২ মাস।
আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সাপ্তাহিক ইসলামিক ডিপিএস সহায়ক হবে। স্বল্প আয় ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক পেশায় যুক্ত মানুষ এখন অল্প অল্প করে সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন। এই সঞ্চিত অর্থ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজে আসবে। পাশাপাশি কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনেও ব্যবহার করা যাবে। বিকাশ–এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কীভাবে শুরু:
২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্স–এর মাসিক ডিপিএস চালুর মাধ্যমে বিকাশে ডিজিটাল সঞ্চয় সেবার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে যুক্ত হয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক। এই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে সিটি ব্যাংকের মাসিক ইসলামিক ডিপিএস চালু হয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ঢাকা ব্যাংকের সাপ্তাহিক ইসলামিক ডিপিএস।
ডিপিএসের ৮০ শতাংশ বড় শহরের বাইরে:
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে খোলা ডিপিএসগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই খুলেছেন নারী গ্রাহক। মোট গ্রাহকের ৮০ শতাংশই বাস করেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বড় শহরের বাইরে সঞ্চয় সেবার বিস্তার ঘটছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বিকাশ অ্যাপে খোলা ৫৫ শতাংশ ডিপিএসই খোলা হয়েছে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে। এতে স্পষ্ট, গ্রাহকরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে সঞ্চয় সেবা নিতে আগ্রহী।
এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব গ্রাহকের ডিপিএসের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাঁদের ৯৬ শতাংশ আবারও বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ডিপিএস খোলার আগ্রহ জানিয়েছেন। এসব তথ্য জানিয়েছে বিকাশ।
কীভাবে খুলবেন ইসলামিক ডিপিএস:
নতুন ডিপিএস খুলতে প্রথমে বিকাশ অ্যাপের মূল পর্দা থেকে ‘সেভিংস’ অংশে যেতে হবে। এরপর ‘নতুন সেভিংস খুলুন’ নির্বাচন করতে হবে। সেখানে সেভিংসের ধরন থেকে ‘ইসলামিক সেভিংস’ বেছে নিতে হবে।
এরপর ডিপিএসের ধরন হিসেবে ‘সাপ্তাহিক’ নির্বাচন করতে হবে। মেয়াদ হিসেবে ৬ বা ১২ মাস ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে জমার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এই পরিমাণ ২৫০, ৫০০, ১০০০, ২০০০ বা ৫০০০ টাকা হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে ঢাকা ব্যাংক নির্বাচন করতে হবে। এরপর নমিনি সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে নিয়ম ও শর্তাবলি পড়ে সম্মতি দিতে হবে। সবশেষে বিকাশ হিসাবের পিন নম্বর দিয়ে নিচের অংশে চাপ দিয়ে ধরে রাখলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
প্রক্রিয়াটি শেষ হলে বিকাশ ও ব্যাংক থেকে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া যাবে। একজন গ্রাহক একাধিক ডিপিএস খোলার সুযোগ পাবেন।
স্বয়ংক্রিয় কিস্তি ও উত্তোলন সুবিধা:
বিকাশ হিসাবে প্রয়োজনীয় টাকা থাকলে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নেওয়া হবে। মেয়াদ শেষ হলে মুনাফাসহ জমা অর্থ বিকাশ অ্যাপেই পাওয়া যাবে। এই অর্থ কোনো খরচ ছাড়াই উত্তোলন করা যাবে।
এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ পূর্তির আগেই ডিপিএস ভাঙার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পার হলে গ্রাহক অ্যাপ থেকেই তা করতে পারবেন।

