Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, ফেব্রু. 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ঋণখেলাপি প্রবণতার চারটি মূল কারণ
    ব্যাংক

    ঋণখেলাপি প্রবণতার চারটি মূল কারণ

    মনিরুজ্জামানফেব্রুয়ারি 24, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির অব্যাহত বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের সতর্ক বার্তা হয়ে উঠেছে। বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন খেলাপি হওয়ায় বিনিয়োগ পরিবেশ, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের আস্থা ব্যাপকভাবে কমেছে।

    দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের যোগসাজশ এবং পরিচালনাগত অদক্ষতার কারণে দেশে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ঋণ জালিয়াতিতে যুক্ত ছিল। এ তালিকায় রয়েছে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ এবং বসুন্ধরা গ্রুপসহ আরও কয়েকটি নাম। অনেক ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীগুলোকে যথাযথ জামানত, প্রকল্প মূল্যায়ন বা নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলো বিপুল ঋণ সুবিধা লাভ করেছে। ঋণ পরিশোধের সময় আসলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। উল্টো বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা দিয়ে তাদের খেলাপি ঋণ থেকে মুক্ত রাখা হয়, যার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জুলাই বিপ্লবের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রকৃত চিত্র ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকে বিদেশি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পদের মান নির্ধারণ করা হয়।

    ফলে দেখা যায়, এক্সিম ব্যাংককে ছাড়া বাকি চার ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। এই গ্রুপগুলো নামে-বেনামে ঋণ তুলে নিয়েছিল, যা এখন ফেরত দিচ্ছে না। ফলে সেসব ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “যখন ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক বিবেচনার বদলে রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে, তখন খেলাপি হওয়া অনিবার্য।”

    চেয়ারম্যান ও এমডির যৌথ দুর্নীতি:

    ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির ক্রমবর্ধমান ঘটনা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক সংকেত। বিশেষ করে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা—চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের—যোগসাজশে ঋণ কেলেঙ্কারির ফলে খেলাপি ঋণের মাত্রা বেড়েছে।

    অতীতে একাধিক আলোচিত কেলেঙ্কারি পুরো ব্যাংকিং খাতকে নড়িয়ে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক গ্রুপ ঋণ কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, পদ্মা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং এননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

    বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঋণ প্রস্তাব বা অনুমোদন নিয়ে বোর্ডসভায় আলোচনা সীমিত ছিল। প্রায়শই বোর্ডসভার আগের রাতেই বা সভার দিনে কার্যবিবরণী পরিচালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বছরের পর বছর কর্মকর্তারা কিছুই না জেনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম একক কর্তৃত্বের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ঋণ অনুমোদন দিতেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে।

    অপরদিকে, একক গ্রাহকের ঋণসীমা অমান্য করে এননটেক্স গ্রুপকে ২০১২ সালে বিপুল ঋণ দেওয়া হয়। বারবার সুদ মওকুফ এবং ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর পরও গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করেননি। ২০১৯ সালে বাধ্যতামূলকভাবে মামলা করার প্রয়োজন দেখা দিলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক সুদ মওকুফ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণ এবং সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে সব ধরনের ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। ২০২২ সালের পর গ্রাহক এক টাকাও পরিশোধ করেননি। ডাউন পেমেন্টের অর্থও পরিশোধ হয়নি। তবুও ঋণ নিয়মিত দেখিয়ে গ্রাহককে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত আদেশ দিয়েছে, যারা দায়িত্বে অবহেলা ও যোগসাজশের কারণে এননটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছেন, তাদের ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

    নিয়মে শিথিলতা ও পরিভাষা পরিবর্তন:

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার রূপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতি এবং পুনঃতফসিল ও ঋণ অবলোপনের সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় ঋণ পরিশোধে অনীহা তৈরি হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ ক্রমবর্ধমান।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। শুরুতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ভিত্তিতে ব্যাংক খাত পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিশেষভাবে চালু হওয়া ঋণ পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় শিথিলতার কারণে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়। কখনো ঋণ পরিশোধ না করেই নিয়মিত রাখা হতো, কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পুনঃতফসিল দেওয়া হতো, আবার কখনো ভুয়া ঋণ ব্যবহার করে দায় সমন্বয় করার সুযোগ দেওয়া হতো।

    ২০২২ সালের জুলাইয়ে আব্দুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালায় ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়। আগের নিয়মে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ১০–৩০ শতাংশ জমা দিতে হতো, নতুন নীতিতে তা নামিয়ে আনা হয় মাত্র ২.৫–৪ শতাংশে। আগে একটি ঋণ সর্বোচ্চ তিন দফায় ৬০ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা যেত, নতুন নীতিতে চার দফায় সর্বোচ্চ ২৯ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঋণ পুনঃতফসিলের পর নতুন ঋণ নিতে হলে আগের নিয়মে ১৫ শতাংশ জমা দিতে হতো, নতুন নীতিতে মাত্র ৩ শতাংশ জমা দিলেই চলবে। সবক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ যত বেশি, তত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু ও চাঙা করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর, আর ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতির সুবিধা পাওয়া যাবে।

    নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের মান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক রীতি আবার চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঋণ পরিশোধ না হলে তা মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। অনাদায়ি ঋণ ৯০ দিন অতিক্রম করলে তা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে। আগে যেখানে ৯ মাস ব্যর্থ হলে ঋণ খেলাপি দেখানো হতো, নতুন নিয়মে তা দুই ধাপে তিন মাসে নামানোর ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখন দ্রুত খেলাপি হয়ে পড়ছেন।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ক্রমবর্ধমান হয়ে ওঠেছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আমানতকারীদের আস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের পেছনে নীতি, নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং উদ্যোক্তাদের অদক্ষতা মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও কেলেঙ্কারি:

    অতীতে একাধিক আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি ব্যাংক খাত নড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক গ্রুপ, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, পদ্মা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং এননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি তাৎপর্যপূর্ণ। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়, যার বড় অংশ পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

    বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঋণ প্রস্তাব ও অনুমোদন বোর্ডসভায় খুব সীমিত আলোচনার মাধ্যমে হয়। কার্যবিবরণী প্রায়শই সভার দিন বা আগের রাতে পরিচালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। দীর্ঘ বছর ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই এবং এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম একক কর্তৃত্বের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ঋণ অনুমোদন দিতেন। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    পুনঃতফসিল ও শিথিল নীতি:

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল নীতি ও পুনঃতফসিলের সহজলভ্যতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঋণ পরিশোধে অনীহা তৈরি করেছে। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের আগে আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ব্যাংক খাত পরিচালিত হলেও নির্বাচনের আগে পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় শিথিলতার কারণে খেলাপি ঋণ কম দেখানো হতো।

    ২০২২ সালের জুলাইয়ে আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালায় ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়। ডাউন পেমেন্ট ১০–৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৫–৪ শতাংশ করা হয়। পুনঃতফসিলের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৯ বছর এবং নতুন ঋণ নেওয়ার জন্য মাত্র ৩ শতাংশ জমা যথেষ্ট। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২ শতাংশ জমা দিয়ে ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি পাওয়া যাবে।

    ঋণখেলাপির আরেকটি বড় কারণ হলো উদ্যোক্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার অভাব। অনেক উদ্যোক্তা যথাযথ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই ঋণ নিয়েছেন, আবার কিছু ব্যাংকে দক্ষ নেতৃত্বের ঘাটতি থাকায় ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দুর্বল ছিল। ফলে অনেক ঋণ যথাসময়ে ফেরত যায়নি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনেক ঋণ আবেদনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ঠিকানা, কার্যক্রম বা সময়কাল উল্লেখ নেই। শুধু নাম এবং প্রয়োজনীয় ঋণ পরিমাণ দেখিয়ে অখ্যাত প্রতিষ্ঠানকেও ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিছু উদ্যোক্তা নিজের প্রকল্পের চাহিদার চেয়ে বিপুল ঋণ নিয়ে ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় লোকসান এবং খেলাপি ঋণের কারণ হয়ে ওঠে।

    বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংকের বিশ্লেষণ:

    ড. জাহিদ হোসেন, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, ঋণ বিতরণে যোগসাজশ, নীতিগত দুর্বলতা এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি মূলত চারটি কারণে তৈরি হয়েছে:

    • রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঋণ বিতরণ।
    • নীতিমালা অমান্য করে ঋণ দেওয়া।
    • ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতা।
    • নতুন খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার পরিবর্তন।

    তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন উদ্যোক্তার প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও সে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ায় অতিরিক্ত টাকা প্রায়শই পাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তাই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ক্রমবর্ধমান। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতরণকৃত ব্যাংক ঋণের বড় অংশ এখন খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত দলের শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা এ খেলাপিতে যুক্ত।

    ঋণখেলাপির পরিসংখ্যান:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা, মোট ঋণের ৩৪.৪০ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং অনুপাত দু’টোই বেড়েছে।

    ঋণখেলাপি সৃষ্টির পেছনের কারণ:

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়াদি ঋণখেলাপির সময় পুনর্নির্ধারণ, বড় অঙ্কের ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বিরূপ মানে শ্রেণিকৃত হওয়া, গ্রাহকের চলতি ঋণ নবায়ন না হওয়া, পুনঃতফসিল করা ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ না হওয়া এবং বিদ্যমান খেলাপি ঋণের ওপর সুদ যোগ হওয়ার কারণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এ ছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূত ঋণ অনুমোদন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল নীতি, পুনঃতফসিল ও অবলোপনের সহজলভ্যতা, উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার ঘাটতি—এই সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    অর্থঘাটতি ও ভরসাহীন রাষ্ট্রীয় তহবিল: চাপের মধ্যে নতুন সরকার—সমাধান কোথায়?

    ফেব্রুয়ারি 24, 2026
    মোস্ট ফিচার

    তুরস্কের উত্থান ইসরায়েলের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

    ফেব্রুয়ারি 24, 2026
    ব্যাংক

    দক্ষতার নতুন মডেলে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক এশিয়ার চমক

    ফেব্রুয়ারি 24, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক আগস্ট 4, 2025

    ১১৭ বছরের সকল জমির দলিল এখন অনলাইনে

    বাংলাদেশ নভেম্বর 9, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.