শেয়ারবাজারে নতুন গতি যোগ করেছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠেছে ব্যাংকটির শেয়ার।
গতকাল সোমবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এ প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা। এদিন শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ পয়সা। শতাংশের হিসেবে যা পৌনে ১ শতাংশের সমান।
ডিএসইর তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির শেয়ার সর্বোচ্চ ১১৪ টাকায় উঠেছিল। এরপর দীর্ঘ পতন শুরু হয়। দাম নেমে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায় ৩৩ টাকায়। সেই নিম্নগতি থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারটি। একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ও আয় বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। তার প্রতিফলন দেখা যায় শেয়ারের বাজারমূল্যে।
সাম্প্রতিক উত্থান আরও ত্বরান্বিত হয় গত ডিসেম্বরের পর। ৩০ ডিসেম্বর শেয়ারটির দাম ছিল ৬৩ টাকা। রোববার দিন শেষে তা ৮৭ টাকা ছাড়ায়। অর্থাৎ প্রায় দুই মাসে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ২৪ টাকা। শতাংশের হিসাবে যা ৩৮ শতাংশের বেশি।
এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারটি অবমূল্যায়িত ছিল। ব্যাংকটির পারফরম্যান্সের তুলনায় বাজারদর পিছিয়ে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ব্যবধান কমতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, কয়েক মাসে দাম বাড়লেও এখনো একে অতিমূল্যায়িত বলা যাবে না। দেশের সুশাসন ও গ্রাহক আস্থার দিক থেকে এগিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি ব্র্যাক ব্যাংক। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এতদিন তার শেয়ারের দামে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটায় বাজারে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শেয়ারগুলোর একটি ব্র্যাক ব্যাংক। গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বিদেশি বিনিয়োগ কমে গিয়েছিল। নির্বাচনী অনিশ্চয়তা দূর হয়ে নতুন সরকার গঠনের পর বিদেশি অংশগ্রহণ বাড়ছে। ফলে যেসব শেয়ারে তাদের আগ্রহ রয়েছে, সেগুলোর দামও বাড়ছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির প্রায় ৩২ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। জানুয়ারি শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে। অর্থাৎ ১৩ মাসে বিদেশি মালিকানা বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মালিকানা কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে। তাদের মালিকানা ৪৬ শতাংশের বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে কম।
ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের এই উত্থান ব্যাংক খাতের অন্যান্য শেয়ারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সূচকের ঊর্ধ্বগতিতেও ভূমিকা রাখছে। সোমবার ঢাকার বাজারে লেনদেনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংকটি। এদিন প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। শেয়ারটির দরবৃদ্ধির কারণে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে সাড়ে ৪ পয়েন্টের বেশি।

