রমজান এলেই বদলে যায় ব্যয়ের ধরণ। মাসের শুরুতেই খাবারের খরচ বাড়ে। এরপর তালিকায় যোগ হয় নতুন পোশাক, জুতা, গয়না ও প্রয়োজনীয় নানা পণ্য। কেউ কেউ এ সময় দেশ-বিদেশেও ভ্রমণে যান। সব মিলিয়ে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
এই বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ব্যাংকগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য ঘোষণা করা হয় নানা অফার ও মূল্যছাড়। ফলে কার্ডে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ে। নগদ লেনদেন চললেও ছাড় ও ক্যাশব্যাকের সুবিধায় অনেকেই কার্ড ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে ক্রেতারা একদিকে যেমন সুবিধা পান, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর লেনদেনও বাড়ে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রোজা ও ঈদকে ঘিরে উৎসবমুখর কেনাকাটা বেড়ে যায়। তাই গ্রাহকদের সহজ লেনদেন নিশ্চিত করতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। সিটি ব্যাংক-এর কার্ড বিভাগের প্রধান তৌহিদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, রোজায় ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কার্ডে গ্রাহকের খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ কারণেই ব্যাংকগুলো ছাড় ও ক্যাশব্যাক বাড়িয়ে দেয়।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফারের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এসএমএসের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষ ছাড়ের তথ্যও জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন বিপণিবিতানের ক্যাশ কাউন্টারেও এসব প্রচারণা চোখে পড়ছে।
সিটি ব্যাংকের অফার:
সিটি ব্যাংক এর অ্যামেক্স, ভিসা ও মাস্টারকার্ড ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডে লাইফস্টাইল ও গ্রোসারি আউটলেটে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক রয়েছে। ৭০০টির বেশি রিটেইল স্টোরে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ১০০টির বেশি রেস্তোরাঁয় খাবারের বিলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং বিভিন্ন অনলাইন মার্চেন্ট ও ফুড ডেলিভারিতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলছে।
ইফতার ও ডিনারের জন্য ৫০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও তারকা হোটেলে বিশেষ অফার আছে। অ্যামেক্স ডেবিট কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট পাঁচতারকা হোটেলে একটি প্যাকেজ কিনলে পরবর্তী প্যাকেজে ৫০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের সুবিধা:
ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকেরা ১ হাজার ৪০০টির বেশি আউটলেটে ছাড় পাচ্ছেন। বিভিন্ন তারকা হোটেলে ইফতার, ডিনার ও সাহ্রিতে একটি প্যাকেজ কিনলে চারটি পর্যন্ত ফ্রি বুফে অফার রয়েছে।
এ ছাড়া ৫৩টি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডাইনিং ছাড় মিলছে। ১১৯টি লাইফস্টাইল পার্টনার শপে রয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ছাড়। ২৫টি গয়নার দোকানে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটায় আড়ং, অ্যাপেক্স ও বাটায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক রয়েছে। লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, মম ইনসহ ৩৫টি ট্রাভেল ও এয়ারলাইনস পার্টনারে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলছে।
প্রাইম ব্যাংকের ক্যাশব্যাক:
প্রাইম ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডধারীরা লাইফস্টাইল কেনাকাটায় ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট তারকা হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইফতার ও ডিনারে ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ অফার রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডে কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের অফার:
ইস্টার্ন ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ডে ১৩টি তারকা হোটেলে ইফতার ও ডিনারে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান, টু ও থ্রি’ সুবিধা আছে। ৭০টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলছে। জুয়েলারি ও মেকওভারের জন্য ২৫টি আউটলেটে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ক্যাশব্যাক:
ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের পাঁচতারকা হোটেলে ইফতার ও ডিনারে একটির মূল্যে চারটি অফার দিচ্ছে। তাদের ক্রেডিট কার্ডে আড়ং, আগোরা, অ্যাপেক্স, বাটা, চালডাল, দারাজ, ইউনিমার্ট ও মীনা বাজারে কেনাকাটায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক রয়েছে।
নেক্সাস–পে ও রকেট অ্যাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করলেও ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। বে, লোটো, পিৎজা হাট, কেএফসি, ইজি, জেন্টেল পার্ক ও সেইলরেও এ সুবিধা মিলছে।
ইউসিবির অফার:
ইউসিবির ক্রেডিট কার্ডধারীরা স্বপ্ন, আগোরা ও মীনা বাজারে ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন। আড়ং, অ্যাপেক্স, বাটা, আর্টিসান ও ইয়েলোতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে ডেবিট কার্ড রয়েছে চার কোটির বেশি। ক্রেডিট কার্ড প্রায় ২৮ লাখ এবং প্রিপেইড কার্ড প্রায় ৯০ লাখ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। রমজানে বাড়তি খরচ সামাল দিতে ছাড় ও ক্যাশব্যাক এখন বড় ভরসা। ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই এটি হয়ে উঠেছে উৎসবকেন্দ্রিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

