বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নারীর অংশ এখনও পুরুষের তুলনায় কম। তবে উচ্চ পর্যায়ে নারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত নারীর সংখ্যা ১০.২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ছয় মাস আগে এটি ছিল ৯.৭৩ শতাংশ, আর পাঁচ বছর আগে ৯.৩৭ শতাংশ। দীর্ঘ সময় ধরে এই হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল।
তবে সামগ্রিকভাবে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রভাব ব্যাংক খাতেও পড়েছিল। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকের প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির দায়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১৫টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করলে অনেক প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মী চাকরি হারান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংক খাতে মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ২৬৭ জনে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১৪ হাজার ২৪৫ জন। মূলত বেসরকারি ব্যাংকের ২,১৪ জন নারী কর্মী কমার প্রভাবেই মোট কর্মী কমেছে। জুনে নারী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫,৭৮২ জনে, যা মোট কর্মীর ১৬.৭৮ শতাংশ। ছয় মাস আগে এটি ছিল ৩৭,৬৪৯ জন, মোট কর্মীর ১৭.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ ৬ মাসে নারী কর্মী কমেছে ১,৮৬৭ জন। একই সময়ে পুরুষ কর্মী বেড়ে হয়েছে ১,৭৬,৫৯৬ জন।
মধ্যবর্তী পর্যায়ে নারীর অংশ বেড়েছে ১৫.৮৪ শতাংশে, ছয় মাস আগে যা ছিল ১৫.৪৪ শতাংশ। তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে কমে গেছে ১৭.৬৬ শতাংশে, ২০২৪ সালের জুনে যা ছিল ১৮.৮৭ শতাংশ। পরিচালনা পর্ষদে নারীর অংশ কমে ১২.৯৭ শতাংশে নেমেছে, ছয় মাস আগে যা ছিল ১৩.৬১ শতাংশ। নারীর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি বিদেশি ব্যাংকে, যেখানে গড় হার ২৫ শতাংশের বেশি। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে নারীর অংশ ১৬.৬৮ শতাংশ, আর বেসরকারি ব্যাংকে ১৬.৬২ শতাংশ।
এদিকে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে নারীদের জন্য আলাদা প্রোডাক্ট চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা জামানতে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং টিআইএন না থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক লক্ষ্য দিয়েছে মোট সিএমএসএমই ঋণের অন্তত ১৫ শতাংশ নারীর কাছে বিতরণ করতে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর সিএমএসএমই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,১২,৫১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ মাত্র ১৯,৮৪৮ কোটি, যা ৬.৩৫ শতাংশ।
প্রাইম ব্যাংকের হেড অব লায়াবিলিটি অ্যান্ড উইমেন ব্যাংকিং শায়লা আবেদিন বলেন, “নারীর ওপর বিনিয়োগ মানে উদ্ভাবন, দৃঢ়তা এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ। শুধু প্রতীকী উদ্যোগে প্রকৃত পরিবর্তন আসে না। কাঠামোগত পরিবর্তন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সমতার পরিবেশ তৈরি করা হলে নারীরা নিজেদের সম্ভাবনা পূর্ণভাবে বিকশিত করতে পারে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হবে বহুমাত্রিক, যেখানে শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানকে সাফল্য ও রূপান্তরমূলক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে।”

