বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো বাংলাদেশ ব্যাংক এর তত্ত্বাবধানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে চার ব্যাংককে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোনীত স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এবার সরাসরি পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ওঠায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। একই ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার পরও নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মুনির আহমেদ চৌধুরী ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট–১২ এর পরিচালক। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হয়েছেন ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। প্রিমিয়ার ব্যাংকে দায়িত্ব পেয়েছেন পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির। আর আইএফআইসি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট–১ এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামান কে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল সিকদার গ্রুপ, যার নেতৃত্বে ছিলেন জয়নুল হক সিকদার। প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত প্রিমিয়ার গ্রুপ, যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এইচ বি এম ইকবাল। আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। আর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিল এস আলম গ্রুপ; গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ব্যাংকটির পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ শতাংশে। আইএফআইসি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশে পৌঁছায়। আর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে এই হার ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে ওঠে।
ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নামে–বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন। তখন অনেক ঋণ নিয়মিত দেখানো হলেও বর্তমানে সেগুলোর বড় অংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

