ভারত ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত মিলছে। চলতি অর্থবছরের শেষে প্রথমবারের মতো চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপানি গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে চীনের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ মাসে ভারত চীন থেকে পণ্য আমদানি করেছে ১১৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে একই সময়ে চীনে ভারতের রফতানি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। ফলে অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে ১০২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের মোট ঘাটতির চেয়েও বেশি।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে ভারতের রফতানি ১৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিপরীতে আমদানি ইতোমধ্যে ১২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার পূর্বাভাস, অর্থবছর শেষে ঘাটতি ১১১ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ ভারতের দুর্বল উৎপাদন কাঠামো। দেশটির শিল্পখাত এখনো চীনের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, সোলার মডিউল, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক এবং ওষুধের কাঁচামালের জন্য ভারতকে চীনের ওপর নির্ভর করতেই হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পণ্যের বিকল্প সরবরাহ দ্রুত অন্য দেশ থেকে পাওয়া কঠিন। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমার সম্ভাবনাও সীমিত।

