মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে।
এডিবির হিসাব অনুযায়ী, যদি জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে উন্নয়নশীল এশিয়া অঞ্চলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে প্রায় ৩.২ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এডিবি বলছে, একই সময়ে এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৮ শতাংশ কমতে পারে। তবে বড় ঝুঁকি রয়েছে মূল্যস্ফীতিতে—যা প্রায় ৪.৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় বাজারে পড়ে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে।
এডিবির বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে—জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাঁধা এবং আর্থিক নীতিতে কঠোরতা বৃদ্ধি। এই সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমতে সময় লাগে। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আগের অবস্থায় দ্রুত ফিরে আসে না।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এতে দারিদ্র্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে। পর্যটন খাত ও প্রবাসী আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা অনেক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেছেন, সরকারগুলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন—বাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, সাময়িক ও পরিকল্পিত ভর্তুকি প্রদান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আগামী দুই বছর দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।

