বাংলাদেশ সরকার বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কাজাখস্তান থেকে কম দামে ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪১ ডলার দরে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল কেনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।
এই আমদানি উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করবে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি এক্সনমোবিল কাজাখস্তান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের উন্নতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি কিছু উৎস থেকে তেল আমদানিতে জটিলতা থাকলেও এখন যুক্তরাষ্ট্র ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে নমনীয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে এমন কিছু সরবরাহকারী থেকেও তেল কেনা সম্ভব হচ্ছে, যাদের সঙ্গে আংশিকভাবে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—তবে তা আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দামে পাওয়া ডিজেল বাজারের অন্যান্য প্রস্তাবের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। যদিও আরও কম দামের কিছু প্রস্তাব ছিল, তবে আন্তর্জাতিক আপত্তির কারণে সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর ও এলসি খোলা হবে। এরপর প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে কম সালফারযুক্ত উন্নত মানের ডিজেল দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
একই বৈঠকে আরও দুটি জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনা হবে, যার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
তবে সব অনুমোদিত চুক্তি বাস্তবায়িত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। অতীতে দেখা গেছে, কিছু সরবরাহকারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সরবরাহ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য সরকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টি ছাড়া কোনো এলসি খুলছে না।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই নতুন দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।
বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে মূলত বর্তমানে সৌদি আরবিয়ান অয়েল কোম্পানি (সৌদি আরামকো) এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি অপরিশোধিত তেলের একমাত্র তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী। পরিশোধিত জ্বালানির জন্য বর্তমানে ৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও ভবিষ্যতে এই নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মুহূর্তে দাম বাড়ানো হলে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

