মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর বিপরীতে, একই সময়ে দেশটির মোট তেল আমদানি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ভারতের সামগ্রিক আমদানিকে প্রভাবিত করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা:
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা সরাসরি ভারতের তেল আমদানি কমিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হতে হয়েছে।
রাশিয়ার তেলের ভূমিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ:
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়তে হয় দেশটিকে। ভারতের বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা হিসেবে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। শেষমেশ ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কমাতে রাজি হয়, তারপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক হ্রাস করে।
গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাশিয়ার তেলের অংশ কমলেও, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আবার যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় পেয়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে। এ ছাড়ের ফলে সমুদ্রে ভাসমান নিষিদ্ধ ট্যাংকার থেকেও তেল কিনতে সক্ষম হয়েছে ভারত।
আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার উৎস:
অ্যাঙ্গোলা, গ্যাবন, ঘানা ও কঙ্গো থেকেও ভারতের আমদানি বেড়েছে। যদিও মোট আমদানিতে তাদের অংশ এখনও সীমিত। তেল–বাণিজ্য বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছেন, “মধ্য এশিয়ার উৎপাদকেরা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত কিছুটা তেল সংগ্রহ করতে পারছে। এপ্রিলেও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, পাশাপাশি ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এলএনজি সরবরাহে চাপ:
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে ভারতের এলএনজি সরবরাহ মার্চে ৯২ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, অ্যাঙ্গোলা ও নাইজেরিয়া থেকে অতিরিক্ত আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে।
ভারত আমদানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল:
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের ৯০ শতাংশ জ্বালানি ভারত আমদানি করে থাকে। মার্চে আমদানির হ্রাসের ফলে দেশে জ্বালানির দাম ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। জ্বালানিবিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৪১টি দেশ থেকে ভারত তেল আমদানি করে। ভারতের কৌশলগত মজুত এবং বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর কারণে প্রায় ৫০ দিনের তেল মজুত আছে। তবে বাস্তবে তা একযোগে ব্যবহার করা যায় না, তাই বাস্তবিকভাবে দেশটির কাছে ৪০ দিনের তেলের মজুত আছে।

