গত সপ্তাহ থেকে আমদানি বিল পরিশোধ বা এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) নিষ্পত্তিতে ডলারের দর প্রতি ডলারে ২৫ থেকে ৪০ পয়সা বেড়ে গেছে। দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপও এই দরে এলসি সেটেলমেন্ট করেছে। তুলনামূলকভাবে, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা।
একজন ঊর্ধতন ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডলারের দর বাড়ার মূল কারণ দুটি। প্রথমত, রেমিট্যান্স বাড়লেও রপ্তানি কমেছে। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি হয়ে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে রপ্তানি আয় ৩৪৫ কোটি ডলার হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৪২৫ কোটি ডলার অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি ১৮.০৭ শতাংশ কমেছে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ফরওয়ার্ড বুকিং—ভবিষ্যতের ডলার বা পণ্যের দাম আগে থেকে চুক্তির মাধ্যমে লক করা—বেশি হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, কিছু ব্যাংক জুন পর্যন্ত ফরওয়ার্ড বুকিং সম্পন্ন করেছে। ফলে ডলারের চাহিদা সাময়িকভাবে বেড়েছে।
ফরওয়ার্ড বুকিং মূলত ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমানোর একটি উপায়। এতে নির্দিষ্ট মূল্যে ভবিষ্যতের লেনদেন নিশ্চিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, “জ্বালানি তেলের এলসি খোলা আগের চেয়ে বেড়েছে। ফরওয়ার্ড বুকিং দিয়ে এসব এলসি দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারে চাহিদা বেড়েছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, “রেমিট্যান্স বেড়েছে, কিন্তু রপ্তানি কমেছে। তাই ডলারের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি। আমদানি বাড়লে, তা সরাসরি চলতি হিসাবের ঘাটতিতে প্রভাব ফেলবে।”
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরাসরি ডলার কিনছে না। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয় করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা জানান, নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার ফলে দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের উচ্চ এবং নিম্ন সীমা নির্ধারণ করেছে—আপার ব্যান্ড ১৩০ টাকা, লোয়ার ব্যান্ড ১২৫ টাকা।

