বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ১৮৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি অর্থায়ন দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই এই অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত এই বড় সহায়তা প্যাকেজের অন্যতম লক্ষ্য হলো সরকারের আর্থিক চাপ কমানো, বৈদেশিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সংস্থাটির বোর্ড আগামী ২৯ জুন এই অর্থায়নের অনুমোদন দিতে পারে। অনুমোদনের পরদিন থেকেই অর্থ ছাড় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্যাকেজের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের একটি জরুরি তহবিল রাখা হয়েছে, যা মূলত চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে ব্যবহৃত হবে। এই অর্থ বিভিন্ন চলমান ও সমাপ্তির পথে থাকা প্রকল্পের অব্যবহৃত তহবিল পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে।
যেসব প্রকল্প থেকে অর্থ পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নগর উন্নয়ন, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ টেকসই উন্নয়ন এবং যমুনা নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত অর্থ ছাড় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে প্রায় ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রাখা হয়েছে জরুরি প্রতিক্রিয়া ও দ্রুত ফলভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায়। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংশোধন সম্পন্ন করেছে। এখন সংকট মোকাবিলার কর্মপরিকল্পনা ও ক্রয় কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এছাড়া দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বাড়াতে আরও ৪৫ কোটি ডলারের একটি আলাদা সহায়তা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আমানত সুরক্ষা তহবিল শক্তিশালী করা এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে অতিরিক্ত ৫ কোটি ডলার চেয়েছে বলেও জানা গেছে।
জ্বালানি খাতের জন্যও অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলার সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর অর্থায়ন পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি এনে দিতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার মধ্যে এই অর্থ অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বিদেশি ঋণ বা সহায়তার ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমানোর মতো কাঠামোগত সংস্কারও সমানভাবে জরুরি।

