সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মোবাইল ফোনের দাম যেন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে না চলে যায়—এই লক্ষ্য সামনে রেখে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমদানি করা মোবাইল ফোন এবং দেশে সংযোজিত মোবাইল ফোন—উভয় ক্ষেত্রেই শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কার্যত ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এনবিআরের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে মোবাইল ফোনের দাম কমানো এবং সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা।
একই সঙ্গে সরকার দেশের মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের স্বার্থের দিকটিও বিবেচনায় নিয়েছে। শুধু আমদানিতে শুল্ক কমালে দেশীয় সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে—সে বিষয়টি মাথায় রেখেই দ্বিতীয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেসব উপকরণ আমদানি করা হয়, সেগুলোর ওপর কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
এই দুই প্রজ্ঞাপনের সরাসরি প্রভাব পড়বে মোবাইল ফোনের বাজারমূল্যে। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানি করা প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একই দামের শ্রেণিতে দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে দাম কমবে আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ টাকা।
সরকার মনে করছে, শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত শুধু মোবাইল ফোনের দাম কমাতেই নয়, বরং দেশের ডিজিটাল অগ্রগতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোবাইল ফোন এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর নানা সেবার মূল হাতিয়ার। তাই মোবাইল ফোন যত বেশি মানুষের নাগালে আসবে, ডিজিটাল সেবা গ্রহণ তত সহজ ও বিস্তৃত হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। আমদানি ও সংযোজন—দুই ক্ষেত্রেই শুল্ক নীতিতে ভারসাম্য রেখে বাজার স্থিতিশীল করা এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, এনবিআরের এই শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। এখন দেখার বিষয়—বাজারে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কত দ্রুত ও কতটা বাস্তবভাবে প্রতিফলিত হয়।

