Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Wed, Jan 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ভারতনির্ভরতা কমানোর ডাক দিয়েও আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি
    বাণিজ্য

    ভারতনির্ভরতা কমানোর ডাক দিয়েও আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি

    মনিরুজ্জামানJanuary 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

    সেপ্টেম্বরে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ভারতে তার অবস্থানের কারণে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না।” এরপর বিভিন্ন সময়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকেই ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা উল্লেখ করেন।

    ডিসেম্বরে খাদ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের পাশাপাশি সরকার টু সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে। সে মাসেই ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খোঁজার পরিকল্পনা জানায়।

    গত বছরের এপ্রিল থেকে ভারত থেকে স্থলবন্দর পথে সুতা আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নিউজপ্রিন্ট, গুঁড়া দুধ, সাইকেল ও মোটর পার্টস, সিরামিক ওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, টাইলসসহ আরও অনেক পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় এনবিআর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান উঠে।

    তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব পদক্ষেপের প্রভাব ভারত থেকে আমদানিতে দেখা যায়নি। বরং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ (গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থ বিভাগের প্রকাশিত) অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানির ব্যয় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৮৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বৃদ্ধিতে ভারত থেকে সরকারি ক্রয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    গত বছরের ৯ এপ্রিল ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর বন্দরের ব্যবহার প্রত্যাহার করে। কয়েক দিন পর, ১৫ এপ্রিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঘোষণা দেয়, ভারত থেকে সুইং সুতা ও কিছু কাঁচামাল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ করা হবে। সিদ্ধান্তটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। নীতিনির্ধারক ও খাত সংশ্লিষ্টরা ভারত থেকে সুতা আমদানিতে সেফগার্ড ডিউটি আরোপের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু করেন, যাতে স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা সুরক্ষিত থাকে।

    শিল্পায়ন, রফতানিমুখী উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করতে হয়। অর্থমূল্য বিবেচনায় সবচেয়ে বড় আমদানির উৎস চীন, এরপর ভারত। মোট আমদানির ৪৪ শতাংশের বেশি আসে এই দুই দেশ থেকে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ঢাকি-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। এরপর সীমান্তে উত্তেজনা, কূটনৈতিক ভাষার কঠোরতা, ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সীমিত করা এবং পুশ-ইনসহ নিরাপত্তা ইস্যু সামনে আসে।

    ২০২৫ সালে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল, স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রফতানি সীমাবদ্ধতা, কাঁচা পাট ও সুতা আমদানি-রফতানিতে বিধিনিষেধের মতো ঘটনায় দুই দেশের টানাপড়েন কূটনীতি ও রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের বৃদ্ধি হয়েছে ২.৪৪ শতাংশ। ভারত থেকে আমদানি ব্যয়ে বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮৩ শতাংশ।

    দেশভিত্তিক আমদানি ব্যয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট পণ্য আমদানিতে চীনের অংশ সবচেয়ে বেশি—৩০.০২ শতাংশ। ভারতের অংশ ১৪.১৮ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৬৭ শতাংশ। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নির্মাণ ও ভোক্তা বাজার—দেশের সব খাতই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৮৯৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ব্যয় ৭.৮৩ শতাংশ বেড়ে ৯৬৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ক্রমেই বড় হয়েছে। দুই দেশের মোট বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশই ভারত থেকে আসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততার প্রভাব এই প্রবণতাকে বদলাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের আমদানির এই বৃদ্ধি মূলত বাজার অর্থনীতির নিজস্ব গতিপথে ঘটে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অর্থনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলে। ভোক্তা যেখানে কম দামে পণ্য পাবে সেখান থেকে আমদানিকারক কিনে। রফতানিকারক যেখানে কম দামে কাঁচামাল পাবে, সেখান থেকে আনে যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকে। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে খরচ কম পড়ে এবং লিড টাইম কম। এমন দেশ হলো ভারত, চীন তো বটেই। তারা অনেক ধরনের উৎপাদন করছে যার মান ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অন্য দেশের সঙ্গে তুলনীয়। ফলে বাজার অর্থনীতির প্রবণতায় এসব দেশ থেকে আমদানি হচ্ছে।”

    বিদ্যমান টানাপড়েন ও সমস্যাগুলো মাঝে মাঝে আমদানি প্রভাবিত করে। সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, অশুল্ক বাধা দেওয়া হয়। এসব কাজ বন্ধ করে না, কিন্তু নির্ভর করে বাধার মাত্রা অন্য দেশ থেকে আমদানি করার খরচ ও সময়ের সঙ্গে তুলনায় কতটা বড়। যেমন এখন সুতা ল্যান্ডপোর্ট দিয়ে আমদানি বন্ধ করা হয়েছে, তবুও জাহাজে আমদানির মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আসছে। যদি শুল্ক বাধা খুব বেশি হয়, তখন আমদানি বন্ধ হতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ এসব বাধা সত্ত্বেও সস্তায় আমদানির সুযোগ থাকে, আমদানি হয়—এটাই আমরা দেখছি।”

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও কিছু এলাকায় সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ আসে বাংলাদেশ থেকে। বিজিবি একাধিকবার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। একই সময়ে ‘পুশ-ইন’, অর্থাৎ ভারত থেকে লোকজন জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলাধাকের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন দৃশ্যমান হয়। নিরাপত্তার উদ্বেগ তুলে ঢাকায় ভারতীয় কূটনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক ভাষা কঠোর হয়। মাসের শেষ দিকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকার দেশীয় পাটকল ও পাটভিত্তিক শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্য স্থিতিশীলতার যুক্তি দেখিয়ে কাঁচা পাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার পাটকলগুলোতে কাঁচা পাট সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ভারতীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে নেয়া এই সিদ্ধান্ত সীমান্ত বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

    ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক ও ২০২৫ সালের শুরুতে ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনায় অনানুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ থাকায় ভারতীয় পাট শিল্প আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঢাকার পক্ষ থেকে একে অভ্যন্তরীণ শিল্প সুরক্ষার সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও দিল্লি এটিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিবেশের অবনতির উদাহরণ হিসেবে দেখে।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠানোর ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে। এটি রাজনৈতিক টানাপড়েনের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব হিসেবে দেখা হয়। ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঘোষণা দেয়, ভারত থেকে সুইং সুতা ও কিছু কাঁচামাল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ করা হবে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে সরবরাহ চাপ সৃষ্টি করে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ায়।

    এপ্রিলের শেষ ভাগ ও মে মাসে ভারত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও আসবাবসহ কয়েকটি পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি সীমিত করে এবং সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। এতে বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি রফতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাস্তব সংকট দেখা দেয়।

    ২০২৫ সালের মে-জুনে রেল ও নৌপথে বাংলাদেশ-ভারত পণ্য পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আগে সফল হিসেবে প্রচারিত কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এটি বাণিজ্যিক আস্থার অবনতির একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, মান যাচাই ও নন-ট্যারিফ বাধা কঠোর করে। সরাসরি শুল্ক না বাড়ালেও এসব প্রক্রিয়াগত কড়াকড়িকে ঢাকা বাণিজ্যিক চাপ হিসেবে দেখে। গত বছরের ডিসেম্বরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ভারতে তাদের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সীমিত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে ভিসা ও কনস্যুলার সীমাবদ্ধতা কার্যত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জটিল করেছে। খেলার মাঠেও এর রেশ পড়েছে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ধাপে ধাপে রাজনৈতিক আস্থা সংকট থেকে সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক কঠোরতা এবং শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক টানাপড়েনে রূপ নেয়। ঘটনাগুলো একক কোনো ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না থেকে বহুস্তরীয় বিরোধে পরিণত হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

    তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের বিদ্যমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মোটামুটি চলছে। ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “রফতানিতে প্রভাব পড়েছে, তবে ভারত থেকে আমদানি এখন সঠিকভাবে হচ্ছে। পরিমাণ কিছু কমেছে। যেকোনো আমদানিতে পরিবহন খরচ তুলনামূলক কম পড়ায় বড় প্রভাব পড়েনি। এছাড়া গত বছর বন্ধ থাকলেও সরকার চালসহ অনেক পণ্যে নতুন অনুমোদন দিয়েছে। আমরা আশা করি নির্বাচন হয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, পণ্য আমদানি ব্যয়ের অর্থমূল্য বিবেচনায় সর্ববৃহৎ উৎস চীন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন থেকে আমদানি হয় ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি ৭.৭৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫২ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। চীন ও ভারতের পর বাংলাদেশের পণ্য আমদানির তৃতীয় বৃহৎ উৎস যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ২৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি ছিল ২৮৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি কমেছে ১৩.০৭ শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকেও পণ্য আমদানি কমেছে ১৪.১৮ শতাংশ। তাইওয়ান থেকেও আমদানি কমেছে ৮.০১ শতাংশ।

    কূটনৈতিক মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বহুস্তরীয় এবং জটিল। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাদের আন্তঃনির্ভরশীলতা অনেক স্তরে বিস্তৃত। সম্পর্ক বহুমাত্রিক—একটি রাজনৈতিক কাঠামো, একটি কূটনৈতিক কাঠামো, একটি অর্থনৈতিক কাঠামো এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক। এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় টেনশন চলছে। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাতাবরণের টেনশন থাকলেও অর্থনীতি ও মানুষের ক্ষেত্রে যোগাযোগ এখনো আছে। এ কারণেই আমরা আমদানিতে প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি।”

    দীর্ঘমেয়াদি টানাপড়েনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “রাজনৈতিকভাবে যদি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কমানো হবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সীমিত হবে। তবে আমরা ধরে নিচ্ছি, এই আদান-প্রদান এখনো সরাসরি বাধার মুখে পড়েনি। কিছু বাধা এসেছে, কিন্তু রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে একসময় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বরাদ্দ থাকলেও ১১০ উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হয়নি এক টাকাও

    January 14, 2026
    বাণিজ্য

    সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন সার আনছে সরকার

    January 14, 2026
    অর্থনীতি

    ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করল বিএসসি

    January 14, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি August 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত April 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি August 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.