চট্টগ্রাম বন্দরে রমজানের প্রায় ৫০ লাখ টন ভোগ্যপণ্য নিয়ে অর্ধশতাধিক জাহাজ নোঙর করে আটকে আছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও দফায় দফায় শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরে এবং বহির্নোঙরে পণ্য জট তৈরি হয়েছে। এই জট আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে আমদানি করা এই বিশাল পণ্যসম্ভার পাইকারি বাজারে পৌঁছানো নিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এম এ সালাম জানান, বন্দরে আটকে থাকা জাহাজের জট খুলতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে। নতুন জাহাজ নোঙর করলে সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। বন্দর ও ব্যবসায়িক সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম ৯ দিনে সাত দিনই শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ছিলেন। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কারণে যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ এবং ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ছুটির কারণে পণ্য খালাস প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দৈনিক গড়ে পাঁচ হাজার কনটেইনার খালাস হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় তা কমে এক হাজার ৫০০ কনটেইনারে নেমেছে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ কম পণ্য বাজারে গেছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, কর্মবিরতি শেষ হলেও জাহাজ ও পণ্যের যে জট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
বর্তমানে বন্দরের সীমানায় মোট ১১০টি জাহাজ ভাসছে, যার মধ্যে ৫৫টি ভোগ্যপণ্যবাহী। এদের মধ্যে পাঁচটি চিনিবোঝাই, ২০টি খাদ্যসামগ্রীর এবং ২৩টি কনটেইনারবাহী জাহাজ। এই জাহাজে খেজুর, ফলমূল, তেল, গম, ডালসহ অন্তত ১০ ধরনের পণ্য রয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি জেটিতে ৩২,১১১টি কনটেইনার ছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২,৯৪৩ টিইইউসে (২০ ফুট লম্বা কনটেইনারের একক)। বন্দরের এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাতুনগঞ্জ পাইকারি মোকামে। এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও ছোলার দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন বলেন, “জট না কাটলে সরবরাহ সংকট আরও বাড়বে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, রমজানের পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে যানবাহন সংকট এবং অনেক পরিবহন শ্রমিকের ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কারণে খালাসের গতি কমেছিল। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

