ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে, বিশেষ করে এলপিজির দামে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও সরকার জানিয়েছে, আপাতত এলপিজির কোনো তাৎক্ষণিক ঘাটতি নেই। তবে ব্যবসায়ী মহল বলছে, বাজার পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর।
বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা। কিন্তু সরবরাহে ঘাটতি ও পরিবহন সমস্যার কারণে অনেক এলাকায় একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দেশে ৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়। আমদানিতে সামান্য বিলম্ব হলেও দ্রুত বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের শেষদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাস সংকট তীব্র হয় এবং দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।
এদিকে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে কাতার থেকে। অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হয়, ফলে আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ে।
মহেশখালী-এর দুটি ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি প্রক্রিয়াজাত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। মার্চে ১১টি কার্গো আসার কথা রয়েছে। বেশিরভাগ চালান ইতোমধ্যে স্পর্শকাতর নৌপথ অতিক্রম করেছে, তবে কয়েকটি এখনও সমুদ্রে রয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা সময়নির্ভর। কার্গো আসতে সামান্য দেরি হলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ও শিল্পখাতে বিদ্যমান নিম্নচাপ সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ দিনের চাহিদা পূরণের মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে, যদিও পণ্যভেদে পরিমাণে তারতম্য আছে। ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মজুত ফার্নেস অয়েলের তুলনায় কম।
মার্চ মাসে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব ভোক্তাদের ওপর কম পড়ে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকলে বর্তমান খুচরা মূল্য ধরে রাখা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় বাংলাদেশ বহিরাগত ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীল। নৌপথে বিঘ্ন বা বীমা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

