আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন চলতি মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে এবং ঈদ বোনাস আজ ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে শিল্প পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেতন ও বোনাস পরিশোধের হার এখনও সন্তোষজনক নয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে দেশের আটটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে—আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেট—৫২.৬০ শতাংশ কারখানার শ্রমিক ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। একই সময়ে ঈদ বোনাস পরিশোধ হয়নি ৮৩.৯৭ শতাংশ কারখানায়।
দেশে মোট ১০ হাজার ১০০টি কারখানা আছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে ৪ হাজার ৭৮৭টি, অর্থাৎ ৪৭.৪০ শতাংশ। বাকি ৫২.৬০ শতাংশ কারখানার শ্রমিক বেতন পাননি। ঈদ বোনাসের ক্ষেত্রে মাত্র ১ হাজার ৬১৯টি কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে, যা মোটের ১৬.০৩ শতাংশ। বাকি ৮ হাজার ৪৮১ কারখানায় বোনাস বকেয়া আছে।
প্রধান পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ–এর ১ হাজার ৫৪২টি সদস্য কারখানার মধ্যে ৮০৬টি কারখানায় বেতন পরিশোধ হয়েছে। বাকি ৭৩৬ কারখানায় বেতন বকেয়া। ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে ১৫৭টি কারখানায়, বাকি ১ হাজার ৩৮৫টিতে বোনাস বকেয়া।
অন্য পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ–এর ৬২৭টি কারখানার মধ্যে ১৮৯টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে, বাকি ৪৩৮টির বেতন বকেয়া। বোনাস পাওয়া গেছে ৫৪টি কারখানায়, বাকি ৫৭৩টিতে বোনাস বকেয়া। তৈরি পোশাকের কাঁচামাল উৎপাদনকারী বিটিএমএ–এর ৩৩০টি কারখানার মধ্যে ৯৮টিতে বেতন পরিশোধ হয়েছে। বাকি ২৩২টির বেতন বকেয়া। বোনাস পেয়েছে মাত্র ২১টি কারখানা, বাকি ৩০৯টির বোনাস বকেয়া। বেপজা-এর আওতাধীন ৪২৯টি কারখানার মধ্যে ৩৪০টিতে বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে। বোনাস পেয়েছে ২০৪টি কারখানা।
মোট ৭৬ পাটকলের মধ্যে ৬৫টির বেতন দেওয়া হয়েছে। বোনাস পেয়েছে ৩৫টি। এছাড়া অন্যান্য ৭ হাজার ৯৬টি কারখানার মধ্যে ৩ হাজার ২৮৯টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে, বাকি ৩ হাজার ৮০৭টিতে বেতন বকেয়া। বোনাস পেয়েছে ১ হাজার ৪৪৮টি, বাকি ৫ হাজার ৯৪৮টির বোনাস বকেয়া।
৩ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–এর উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম সভা ও আরএমজি বিষয়ক টিসিসি–এর ২৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়, আরএমজি খাতে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং ঈদ উপলক্ষে বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুরির বিষয় আলোচনা করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে যাতে জনভোগান্তি না হয়। কোনো শ্রমিককে কারণ ছাড়া ছাঁটাই বা লে-অফ করা যাবে না। শ্রমিকদের ঈদের ছুটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপনের আলোকে নির্ধারণ করতে হবে।”
সভায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানান। তারা সরকারকে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার প্রস্তাবও দেন।

