বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে মার্কিন শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না—এটি যাচাই করতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইউএসটিআর এক ঘোষণায় জানায়, কিছু দেশের বাণিজ্য নীতি বা কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি না—তা যাচাই করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের মতে, অনেক দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করছে এবং সেই অতিরিক্ত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ছে। এতে মার্কিন উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউএসটিআরের রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার বলেন, অন্য দেশের অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপ যুক্তরাষ্ট্র আর বহন করবে না। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত ও সরবরাহব্যবস্থাকে আবার দেশের ভেতরে শক্তিশালী করা এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে। এই উদ্বৃত্তের বড় অংশই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে আসে। এছাড়া বাংলাদেশের কিছু রপ্তানি খাতকে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যসহ প্রায় ৪৩টি খাতে নগদ সহায়তা বা রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয় বলে ইউএসটিআর জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতটি উল্লেখযোগ্য মন্দার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশে সিমেন্টের ব্যবহার ছিল প্রায় ৩৮ মিলিয়ন টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এই ব্যবহার আরও কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে অনেক শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে বা বিদেশি প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। তদন্ত শেষে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

