ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ১৩৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। সিগারেট বিক্রি কমে যাওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে বহুজাতিক এই তামাক কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা।
গত বছরের ডিসেম্বর শেষে পুরো বছরের হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম। এই বড় পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাভের এই ধসের কারণে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অথচ ২০২৪ সালে একই প্রতিষ্ঠান ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশে এসেছে বড় ধরনের কাটছাঁট।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও প্রস্তাবিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে ২০২৫ সালে লাভ ও লভ্যাংশ কমে যাওয়ার বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। তবে আগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে মহাখালী কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়।
তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছিল যে সিগারেট বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়া, আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন মহাখালী কারখানা বন্ধ থাকার কারণে আয় কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ শুল্ক ও বিক্রি হ্রাসের দ্বৈত চাপে তামাক খাতের মুনাফা কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হলে পরিচালন ব্যয়ও বাড়ে, যা লাভজনকতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।
লাভে বড় পতন এবং লভ্যাংশ কমে যাওয়া বিএটির বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কা। তবে কোম্পানিটি সামনে কী ধরনের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নেয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
তামাক শিল্পে কর ও নিয়ন্ত্রক নীতির পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে মুনাফা পুনরুদ্ধার সহজ হবে না—এমন আশঙ্কাও করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

