বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার সময় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে সর্বশেষ অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়েছিল ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর। তখন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রায়ে বলা হয়েছে, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ চাইলে ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার কাঠামোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে পারবে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই রায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য নয়; বরং এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার ফলে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, নতুন এই রায়ের মাধ্যমে তার একটি সমাধান পাওয়া গেল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে ২০১১ সালে আদালতের একটি রায়ের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলে আপিল বিভাগ নতুন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং বর্তমান সিদ্ধান্ত দেয়।
এই মামলার শুনানিতে বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। রায় প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

