Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ক্ষমতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ—দেশের আইন ও নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে?
    আইন আদালত

    ক্ষমতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ—দেশের আইন ও নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে?

    মনিরুজ্জামানUpdated:এপ্রিল 6, 2026এপ্রিল 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা দুটি অধ্যাদেশসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

    এছাড়া গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে উত্থাপন করার সুপারিশ রয়েছে। সুপারিশ কার্যকর হলে ১০ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারাবে। সব মিলিয়ে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

    অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশের জন্য সংসদে হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ। বাকি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি, যার মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ।

    গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এসব সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন প্রতিবেদন তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে কমিটির তিনজন জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।

    ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে (১২ মার্চ) অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশেষ কমিটি গঠন করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আগামী সোমবার সংসদে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে জামায়াতের সদস্যদের ভিন্নমত সুপারিশে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সামনের দিনগুলোতে সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    যে চারটি রহিত করার সুপারিশ: জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

    • জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ
    • সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫
    • সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
    • সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬

    সংবিধানে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বলা হয়, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের জন্য যোগ্য বিচারক বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’, যার নেতৃত্ব দেবেন প্রধান বিচারপতি। এই কাউন্সিলের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

    অন্যদিকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এ সচিবালয় অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের সব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের মাধ্যমে হবে। সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর থাকবে এবং সচিব প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    জামায়াতে ইসলামের তিন সংসদ সদস্য এই দুটি অধ্যাদেশ হুবহু রাখার পক্ষে। তারা নোট অব ডিসেন্টে উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাতিল হলে বিচার বিভাগে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ও দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    যে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে প্রস্তাবিত নয়: জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশকে তৎক্ষণাৎ বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে।সুপারিশকৃত অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে:

    • ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
    • রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ
    • গণভোট অধ্যাদেশ
    • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ
    • জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • ২০২৬ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ
    • তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ

    এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গণভোট অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ তাদের ভিন্নমতের মধ্যে আছে। পরবর্তী সময়ে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশকৃত অন্য অধ্যাদেশগুলো হলো:

    • মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ,
    • কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ,
    • আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ,
    • বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ,
    • বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে জামায়াতের সদস্যদের কোনো ভিন্নমত নেই।

    গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।

    দুদক অধ্যাদেশ নিয়ে জামায়াতের ভিন্নমত:

    ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এছাড়া সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধ এবং গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, পাশাপাশি কমিশনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।

    জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এই অধ্যাদেশ হুবহু পাসের পক্ষে ভিন্নমত দিয়েছেন। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন হচ্ছে না:

    বহুল আলোচিত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ প্রথমবার ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধানাবলি বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা।

    অধ্যাদেশে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে সংশোধনী আনা হয়, যাতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।

    বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে, চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস না হলে তা কার্যকারিতা হারাবে। জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এই বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। সরকারি দল অধ্যাদেশটি বাতিল করার প্রস্তাব করেছে। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন, এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কিছু আটক গুমের সংজ্ঞা বাদ দিতে হবে। বিরোধী দলের যুক্তি, গত ১৫ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলো সরকারের কাছে ন্যায়বিচার পাননি। অনুমতির জন্য সরকারের কাছে গেলে তা প্রায়শই মেলেনি। ফলে অনুমতির চাওয়া প্রকৃতপক্ষে দায়মুক্তির পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

    মানবাধিকার অধ্যাদেশ: কার্যকারিতা ও বিরোধী প্রতিক্রিয়া:

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনসহ মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে। বিশেষ কমিটি তিনটি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে।

    জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এই সিদ্ধান্তে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, কমিশনকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে বাছাই কমিটি করার বিধান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুমসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রেও অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা রয়েছে।

    সরকার অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকায় তদারকি কীভাবে হবে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের অনুমতি লাগবে, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের পরিবর্তে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। বাছাই কমিটিতে আরও সরকারি প্রতিনিধি যোগ করতে হবে এবং প্রতিটি পদে দুইটি প্রার্থী নাম প্রস্তাব করতে হবে।

    বিরোধী দলের যুক্তি, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও মহা-হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ও কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। অনুমতি নিয়ে তদন্ত করলে দায়মুক্তি তৈরি হয়। আদালতের পরিবর্তে সরকারের অনুমতি দিয়ে গ্রেপ্তার করলে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ বাড়ে।

    রাজস্ব ও কর নীতি বিষয়ক অধ্যাদেশ:

    অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠন করে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আলাদা করার বিধান রাখা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন।

    এছাড়া, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি সরকার মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে। এটি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে করা হলেও, এখনো কার্যকর হয়নি।

    ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত রূপে সংসদে প্রস্তাব করা হবে: বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তবে কোথায় কী ধরনের সংশোধনী আনা হবে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি। এই অধ্যাদেশগুলো হলো:

    • ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ
    • সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ
    • কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)
    • জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
    • বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ
    • পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
    • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ
    • ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ
    • বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ

    এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল-মিটিং, প্রকাশনা এবং অন্যান্য কার্যক্রমও এতে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ কমিটির একটি সূত্র জানায়, সংশোধনী আনার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা না মানলে সাজা সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করার বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কোন ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    পুলিশ কমিশন:

    অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে। এর লক্ষ্য ছিল বাছাই কমিটির মাধ্যমে পুলিশ কমিশন গঠন করা, কমিশন পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিয়োগের সুপারিশ করবে, নাগরিক অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করবে। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করেছে। তবে কী ধরনের সংশোধনী আনা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিরোধী দলের ভিন্নমত অনুযায়ী, এই অধ্যাদেশ পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সহায়ক হবে।

    ৯৮টি অধ্যাদেশ: হুবহু বিল আকারে অনুমোদনের সুপারিশ:

    বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশকে হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো হলো:

    • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ
    • জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ
    • জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ

    এছাড়া, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু অধ্যাদেশও এতে রয়েছে। এগুলো বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করে। তবে এ বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি আছে।

    অন্যান্য হুবহু বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪
    • বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ
    • বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত আইন (সংশোধন), যেখানে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নাম পরিবর্তনের বিধান
    • গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)
    • জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
    • সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
    • সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, এছাড়া আরও কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো মূলত নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত।
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আইন আদালত

    তীব্র গরমে আইনজীবী ‘হাসফাঁস’—ড্রেস কোড শিথিলের দাবি

    এপ্রিল 6, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের ‘মিসাইল সিটি’: ট্রাম্পের হুমকির মাঝেও টিকে থাকার রহস্য!

    এপ্রিল 6, 2026
    অর্থনীতি

    প্রথম একনেক সভায় উঠছে ১২ হাজার কোটি টাকার ১৮ প্রকল্প

    এপ্রিল 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.