বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশের অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী বিচারকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ও শিষ্টাচার মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বিচারকরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এসব নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ১ এপ্রিল শোকজ নোটিশ জারি করা হলেও বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল)। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিচারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে তারা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছেন, যা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭’-এর বিধি ২ (চ) (২) অনুযায়ী চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে যুক্ত হয়েছেন। এটি শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে একই বিধিমালার বিধি ৩ (২) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগেই সংশ্লিষ্ট বিচারকদের শোকজ করা হয়েছে।

