বিচার বিভাগের সদস্যদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এখন থেকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে কর্মরত কোনো সদস্য সরাসরি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত কোনো কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির অনুমোদন নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়, যা গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশ্যে আসে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও সম্মান বজায় রাখা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের যে আস্থা রয়েছে, তা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে মূলত পাঁচটি বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, জুডিসিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য সরাসরি বা কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে ঘুরপথে হলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কোচিং সেন্টার বা অনলাইন কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে জড়াতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত, কোনো সদস্য নিজের নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কোচিং প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি অন্য কেউ এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে চাইলে সেই অনুমতিও দেওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত, বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সদস্য যেসব গোপনীয় বা দাফতরিক তথ্য জানতে পারেন, সেসব তথ্য কোনোভাবেই কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।
চতুর্থত, বাণিজ্যিক কোচিংয়ের জন্য কোনো ধরনের পাঠ্য বা শিক্ষা উপকরণ তৈরি, সম্পাদনা, প্রকাশ কিংবা সরবরাহ করার অনুমতিও থাকছে না সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য।
পঞ্চমত, এই নির্দেশনার কোনো অংশ কেউ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত শৃঙ্খলা আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের অনলাইন কোচিং বা কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটেই বিচার বিভাগের জন্য এই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারকদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যেন কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে এই নির্দেশনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

