ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো সরকারের সাংবিধানিক অধিকার নেই সংবিধান সংশোধনের। এ কাজ একমাত্র পার্লামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
“সংবিধান প্রণয়নে জন অংশগ্রহণ : অন্তর্ভুক্তিমূলক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম” শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ডিবেটিং ক্লাব, ‘ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস ডিবেটিং ক্লাব’। এ অনুষ্ঠানটি পঞ্চম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিতর্ক উৎসবের সমাপনী কার্যক্রমের অংশ ছিল।
হাসান আরিফ তার বক্তব্যে বলেন- “একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে অন্তর্বর্তী সরকার বোধহয় সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকারের এ ধরনের সাংবিধানিক অধিকার নেই। সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র পার্লামেন্টের আছে। আগামীতে গঠিত পার্লামেন্টই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, তারা আসলে কী সংশোধন করবে?”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা, দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে সামনে আনা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি খসড়া সংবিধান তৈরি হবে, যা পরবর্তী পার্লামেন্টের কাছে একটি নাগরিক চার্টার হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্ট তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে এ খসড়ায় নতুন সংযোজন বা পরিবর্তন আনতে পারবে।”
আলোচনায় আন্তঃধর্মীয় সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, “বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সংস্কৃতি নেই বলে যে ধারণা প্রচলিত, তা একেবারে অমূলক। বরং এর চেয়ে পশ্চিম দিকে সূর্য ওঠে বলা অনেক সহজ।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনের ইতিহাস গবেষক রাশেদ রাহম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মো. মিরাজ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্রের পরিচালক এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম, ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি অর্পিতা গোলদার ও সাধারণ সম্পাদক আদনান মুস্তারি এবং ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি রাগীব আনজুম উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভাটি সংবিধানের মৌলিক বিষয়বস্তু এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা ও মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

