যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলা খারিজ করেছেন দেশটির আদালত। বিচারপতি তানিয়া চুটকান মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।
বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই রায় আসে। স্মিথ একই সঙ্গে আরেকটি মামলাও খারিজের আবেদন করেছিলেন। ওই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদের শেষে সরকারি গোপন নথি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন তিনি।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তবে শুরু থেকেই ট্রাম্প এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। আদালতে জ্যাক স্মিথ জানান, নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় আসীন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি খারিজ করা জরুরি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদের শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় সাবেক এক পর্ন তারকাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্তও হয়েছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগকে বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
নতুন প্রেসিডেন্ট, নতুন দায়িত্ব-
গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় জয় পান। আগামী ২০ জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পরবর্তী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসে ফিরছেন। বিচারপতি তানিয়া চুটকান বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে এই মামলাগুলো পুনরায় শুরু করা যাবে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ-
ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “এগুলো সবই বিরোধীদের পরিকল্পনা। তারা আমাকে থামাতে চায়।”
ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলা জেডি ভ্যান্সও একই সুরে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “ট্রাম্প যদি নির্বাচনে পরাজিত হতেন, তাহলে তাঁর জীবনের বাকিটা কারাগারে কাটাতে হতো। এটি প্রমাণ করে, এই মামলাগুলো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে এর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

