সুপ্রিম কোর্টে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক মামলাগুলোর শুনানি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ স্ট্রিমিং) করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। মঙ্গলবার (২০ মে) বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানান, সংবিধানে স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া পাওয়ার যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে এই রিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য জানার অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত, আর বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরাসরি সম্প্রচার একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও জনসমক্ষে যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই আলোকে সুপ্রিম কোর্টে চলমান সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি সরাসরি সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন।
রিটকারীরা একইসঙ্গে একটি নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানান, যাতে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কীভাবে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে তার একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে চলমান গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানি সরাসরি সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, ঢাকা কোর্টের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ, শিক্ষানবিশ আইনজীবী মাহমুদুল হাসান ও সাব্বির আহমদ এবং আরও চারজন আইনের ছাত্র। তারা সবাই এ উদ্যোগকে একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন।
রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।
এই রিটের শুনানির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রিটকারীরা। হাইকোর্টের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়ার দিকেও এখন নজর থাকবে।

