জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমকে আধুনিক ও অধিকতর স্বচ্ছ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষকে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি লিখেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্ব এখন আদালতের অনুমতিক্রমে সরাসরি সম্প্রচার কিংবা রেকর্ড করে প্রচার করার সুযোগ থাকবে। এই সম্প্রচার গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতে পারবে বলে জানান তিনি।
তাজুল ইসলামের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। চিফ প্রসিকিউটরের পোস্ট শেয়ার করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পুরো বিচার প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হলে মানুষের মধ্যে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং বিচার নিয়ে যেসব অপপ্রচার চালানো হয় সেগুলো বন্ধ হবে।
তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিচারকের অনুমতির ওপর সম্প্রচারের বিষয়টি নির্ভরশীল হলে তা বিচারকদের বিতর্কের মুখে ফেলতে পারে। কোন অংশ সম্প্রচারযোগ্য আর কোনটা নয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। তার মতে, এত বড় একটি ঐতিহাসিক বিচার সাধারণ মানুষের স্বচক্ষে দেখার অধিকার থাকা উচিত।
এ ছাড়া ব্যারিস্টার কাজল বাংলাদেশের সব আদালতের বিচারকাজ সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে আদালতব্যবস্থায় চলমান দুর্নীতি হ্রাস পাবে টাউটদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিচার ও আইন পেশার প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক হলেও এর প্রয়োগের পদ্ধতি ও পরিসর নিয়ে এখনও মতানৈক্য রয়েছে। বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মহল এই নতুন বাস্তবতায় কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

