সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১২ বছর পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এবার ১১৮তম বারের মতো সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৮ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত।
২১ মে (বুধবার) ছিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এদিনও প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন রেজা প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন করে আগামী ৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালতের শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। ওই ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব শুরুতে দেওয়া হয় থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে। তবে চারদিন পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি।
এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও র্যাব যখন কোনও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়, তখন ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ র্যাবকে মামলার তদন্ত কাজ থেকে সরিয়ে দেন।
একইসঙ্গে হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতেও বলা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রতিবেদন দাখিলে এমন বারবার বিলম্বে সাগর-রুনি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে, যা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলেছে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের।

