জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবে। এই ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালি বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (২২ মে) একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন এই বিধিমালায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল যদি কোনো আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, তাহলে সেটি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরও তা কার্যকর করতে পারবেন। এটি আগে শুধুমাত্র পুলিশের কাজ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তদন্ত সংস্থার সদস্যরা সরাসরি গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ এস এম রুহুল ইমরান। এটি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সদস্য এম মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এবং মো. শফিউল আলম মাহমুদের আদেশক্রমে জারি করা হয়।
২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালি বিধিমালায় এবার মোট ২৪টি বিধিতে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিধি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে এবং বাকি ১৯টি বিধি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে নতুনভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বিধি ৬-এ। আগের বিধি বাতিল করে নতুনভাবে প্রতিস্থাপিত বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো তদন্ত কর্মকর্তার বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাহলে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করতে পারবেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তাও নিতে পারবেন।
এছাড়া বিলুপ্ত বিধি ৯(১)-এর জায়গায় নতুনভাবে প্রতিস্থাপিত বিধি অনুযায়ী, এখন থেকে ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পারবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, তদন্তকারী কর্মকর্তা অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ৮(২) ধারায় নিয়োজিত প্রসিকিউটর।
নতুন বিধিমালায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির পরিসর বাড়িয়ে তা ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো সংগঠন যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকে, তবে তাকেও অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে প্রধান প্রসিকিউটরের (চিফ প্রসিকিউটর) হাতে কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কার্যপ্রণালি বিধি-২০১০-এর এই সংশোধিত রূপ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

