ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চিত্রনায়িকা পরীমণি আজ হাজির হয়েছেন আলোচিত শ্লীলতাহানি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায়। মামলায় আজ সোমবার (২৬ মে) তাকে জেরা করার দিন ধার্য রয়েছে। বেলা ১১টার দিকে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহিনা হক সিদ্দিকার আদালতে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, আজ আদালতে তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করবেন। উল্লেখ্য, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি এবং শহীদুল আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২১ সালের ৮ জুন রাতে ঢাকার অদূরে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে যান পরীমণি। সেদিন রাতে সেখানে তাকে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জুন সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন পরীমণি। মামলায় নাসির ও অমির নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে, ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি এবং শহীদুল আলমকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ১৩ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর তৎকালীন বিচারক হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নাসির ও অমির দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে বাদীপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করে এবং রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে। ওই বছরের ১৮ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু করেন।
পরীমণির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর। তবে গত বছরের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দিতে কিছুটা ইতস্তত করেন তিনি। এ সময় তার আইনজীবী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ চালানোর অনুরোধ করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর পরীমণির জবানবন্দি রেকর্ড সম্পন্ন হয়।
আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান। মামলার গুরুত্ব ও প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে আদালতের প্রতিটি ধাপ দেশব্যাপী নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আজকের জেরা পর্বে কী ঘটে তা মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

